কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে কোনো ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি সুবিধা মেলেনি। এই সময়ে একটি টাকাও গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতার অনুকূলে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৭ জুলাই কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) শিল্পের উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পর থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৩টি ব্যাংক ও ৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ২৭৪টি আবেদনের বিপরীতে ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকার গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়া হয়। এরপর গত ২৪ জুন পর্যন্ত আর কোনো গ্যারান্টি দেওয়া হয়নি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এস এম মোহসীন হোসাইন গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কোনো বিষয়ে বলার সুযোগ নেই। মুখপাত্র আছেন। তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। আমি এই মুহূর্তে বাইরে আছি।’
গত বছর ২ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠনের পর এই গ্যারান্টি সুবিধা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ২৪টি ব্যাংক ও ৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
প্রথম পর্যায়ে কভিড-১৯ প্রণোদনার আওতায় কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) শিল্পের ঋণের সুরক্ষার জন্য এই স্কিম চালু করা হলেও পরে সব ধরনের সিএমএস ঋণের ক্ষেত্রে এই গ্যারান্টি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুরুতে কেবল চলতি মূলধন ঋণ এই গ্যারান্টি সুবিধার আওতায় থাকলেও সম্প্রতি মেয়াদি ঋণকেও এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ভর্তুকি সুবিধার আওতায় থাকবে। জামানতহীন ঋণ আদায় না হলে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লোকসানের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের গ্যারান্টি সুবিধা পেতে প্রতিটি ঋণ পোর্টফোলিওর বিপরীতে ১ শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি দিতে হয়।
এই ফি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করতে পারে। নারীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এই গ্যারান্টির আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজি হিসেবে গ্রাহককে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে প্রকল্পের বাকি ৮০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।
কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের হার যদি (৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক) ১০ শতাংশের বেশি থাকে তাহলে ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা পায় না। এ ধরনের গ্যারান্টি সুবিধার আওতায় জামানতবিহীন ঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের জন্য সুবিধাজনক বিধায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করছে। এখন আর প্রতি বছর এই চুক্তি করতে হয় না। সম্প্রতি এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাঁচ বছরে এক বার এই চুক্তি করলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিএমএসএমই খাতের জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত ১৭ জুন পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সিএমএসএমই খাতের ৯৪ হাজার ৯৬৯ গ্রাহক এই ঋণ পেয়েছেন। অর্থাৎ বাস্তবায়নের হার ৭৪ শতাংশ।
করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষণা করে।