দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণকাজ থামাল মন্ত্রণালয়

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছরেও নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করা নজরুল ভাস্কর্য অসম্পূর্ণ রেখেই উদ্বোধনের পর এবার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে প্রকল্পটিতে নতুন করে অর্থ খরচের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের আগে ‘ভাস্কর্যের ব্যয় বেড়েছে তিন গুণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল দৈনিক দেশ রূপান্তরে। গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ভাস্কর্য নির্মাণের ওই প্রকল্পে অর্থ খরচের ওপর স্থগিতাদেশের কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু এবং কবি নজরুলের দুটি ভাস্কর্যের কাজ ২০১৯ সালের জুন-জুলাই মাসে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুতিয়া করপোরেশন। তবে যথাসময়ে কাজ শেষ না হলেও এই প্রকল্পে দফায় দফায় বেড়েছে অর্থছাড়ের পরিমাণ। দুটি ভাস্কর্যের বেদি নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। যেখানে বেদি নির্মাণকাজ শেষ করার চুক্তি ছিল ৪২ লাখ টাকায়। অন্যদিকে ভাস্কর্য নির্মাণ পুরো সম্পন্ন না  হলেও ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য এবং ২০২১ সালের ২৫ মে নজরুল ভাস্কর্য উদ্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাস্কর্য নির্মাণের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যের জন্য যেন আর অর্থ ব্যয় না করা হয় এবং ভাস্কর্য নির্মাণসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এনে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর দেশ রূপান্তরকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২১ সালের ২৫ মে কবি নজরুলের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যের উদ্বোধনের পর অবশিষ্ট কাজ চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সমাপ্তের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা শেষ হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুতিয়া করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী জি এম নূরুল করিম স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নাকি কাজ আটকে দিয়েছে। আর আমাকে কাজ সম্পন্নের জন্য কিছু বলেনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। টাকা না পেলে কাজ কীভাবে করব?’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কস দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজ ভালো করতে হলে ব্যয় তো হবেই। সোনা দিয়ে করলে এক রকম হবে আর রুপা দিয়ে করলে এক রকম। দরকার ভাস্কর্যের। সে টাকা কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। দ্রুতই শেষ করব। প্রকল্প থেকে না এলে রাজস্ব থেকে আনব, যেখান থেকেই হোক আসবে। কাজও শেষ হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কাজ স্থগিতের নির্দেশ ও তদন্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্র্তৃপক্ষ কী ভাবছে তা জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং কয়েকটি কাজ স্থগিত করেছে। তাই বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন খুব দ্রুতই তদন্ত শুরু করবে। এ ছাড়া সেখানে কোনো অনিয়ম হলে এবং তার সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’