গাজীপুরে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাত-পা চেপে ধরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে স্ত্রী। পরে দুজন মিলে স্বামীর লাশ বালুচাপা দেয়।
হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর গাজীপুর নগরীর কাশিমপুর শৈলডুবী এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কক্ষে বালুর নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহিদুল ইসলাম (৩০) কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার চর বোয়ালমারী গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী রৌমারী থানার বড়াইকান্দি গ্রামের রূপালী খাতুন (২৫) এবং তার প্রেমিক জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার নীলেরচর গ্রামের মোহাম্মদ সুজন মিয়াকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজনের বরাত দিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ উত্তর) জাকির হাসান জানান, জাহিদুলের স্ত্রী রূপালী খাতুনের সঙ্গে সুজন মিয়ার গত আট-নয় মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রূপালী বেশ কয়েকবার স্বামী জাহিদুলকে ফেলে সুজনের কাছে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। এ নিয়ে সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী জাহিদুলকে হত্যা করে প্রেমিক সুজনের সঙ্গে সংসার করার পরিকল্পনা করে। গত ৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে জাহিদুল বাসায় এলে পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপালী দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। রাত ১টার দিকে সুজন ঘুমন্ত জাহিদের হাত-পা চেপে ধরে এবং রূপালী তার স্বামীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে দুজন মিলে বালুর নিচে মৃতদেহ চাপা দেয়।
গত শুক্রবার কাশিমপুরের শৈলডুবীর এলাকার নির্মাণাধীন বাড়ির একটি কক্ষের বালুর নিচ থেকে জাহিদুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কুড়িগ্রাম এবং জামালপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রূপালী ও সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।