গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পাঁচজন মারা গেছেন। এ ছাড়া জানা যায়, উপজেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। ঘরে ঘরে করোনার উপসর্গের চিকিৎসা চলছে কমলগঞ্জের সর্বত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত নয় দিন আগে উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। নয় দিন পর সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে তার বড়ভাই দলিল লেখক আলাউদ্দীন (৪৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।
আলাউদ্দীনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে রোববার বৃষ্টিতে ভিজলে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ছাড়াও করোনা সংক্রমিত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে সোমবার সকালে আদমপুরের পূর্ব জালালপুর গ্রামের হারুন-অর রশীদ (৪০) মারা যান। ১৬ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে সোমবার ভোরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাধবপুরের পাত্রখোলা চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল কুরাইয়া (৪৫)। করোনা শনাক্ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মারা যান আলীনগরের যোগিবিল গ্রামের আমেনা বেগম (৬৫)। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক মঈন উদ্দীনের মা। করোনার উপসর্গ নিয়ে তার বাড়িতে তাকে দেখতে এসে তার বড় বোন (৭০) মারা গেছেন।
আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা জানান, ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে আমেনা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে দেখতে এসে তারই বড় বোন মারা গেছেন। সোমবার বিকেলে দুই বোনের নামাজে জানাজা এক সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।’
এদিকে কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্র ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও মাথা ব্যথার রোগী রয়েছেন।
এসব করোনার উপসর্গ দাবি করে চিকিৎসকরা বলেন, এদের নমুনা পরীক্ষা করলে করোনা পজিটিভ হবে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘সোমবার কমলগঞ্জের পাঁচজন মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। তবে এদের মধ্যে দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাকি তিনজন এখানে নমুনা দেননি। কমলগঞ্জের সর্বত্রই করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে। মানুষজন মানছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা। এতে করে কমলগঞ্জের অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করেছে। উপজেলায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’