পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আদেশ দেন। আদালত এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী ১ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করে।
আসামি মেহেদী হাসান ওরফে স্বপন ও সুমন জমাদ্দারের পক্ষে ভার্চুয়ালি শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মমতাজ উদ্দিন ফকির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ড. মো. বশির উল্লাহ। এর আগে গত ৩০ জুন হাইকোর্টের একটি ভার্চুয়াল বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে দুই আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেয়। পরে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ওই শিশুটি উপজেলার বুখাইতলা-বান্ধবপাড়ায় নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ওই বিদ্যালয়ের মাঠে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরদিন দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে শিশুর ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়। সুরতহাল ও প্রাথমিক তদন্তে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তদন্তকালে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে শিশুর মামাতো ভাই মেহেদী হাসান স্বপনের সংশ্লিষ্টতা পায়। পরে মেহেদী ও তার সহযোগী সুমন জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামি সুমন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, মেহেদী ও সে (সুমন) ওই শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর তাদের বিচার শুরু হয়। ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে স্বপন ও সুমনকে মৃত্যুদ- দেয়। পরে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরাও আপিল করে।