কাদের মির্জার নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্স চালককে নির্যাতনের অভিযোগ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা ভবনে আটক রেখে মো. শহিদ উল্যাহ্ (৩৫) নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতন শেষে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি ও হাসপাতালে তার স্বেচ্ছায় দেওয়া বক্তব্যের দুটি পৃথক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই স্থানীয় মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নির্দেশে তার লোকজনরা ওই চালককে নির্যাতন করে।

নির্যাতনের শিকার মো. শহিদ উল্যাহ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেইট থেকে জনসেবা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শহিদকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শহিদের অভিযোগ, বসুরহাট পৌরসভা ভবনে কাদের মির্জার অনুসারীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। ওই স্বীকারোক্তিতে তাকে বলতে বাধ্য করা হয়— ১৫ জুলাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলে অ্যাম্বুলেন্স করে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীরা অস্ত্র আদান প্রদান করেছে।

তিনি জানান, তার অ্যাম্বুলেন্সে করে আ.লীগ নেতারা অস্ত্র নিয়েছে এমন একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য তাকে চাপ দেয় আবদুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীরা। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে তাকে ডেকে নিয়ে পৌর ভবনের তিন তলার একটি কক্ষে প্রথমে আটক করে দফায় দফায় লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে মেয়রের লোকজন।

মারধর সহ্য করতে না পেরে তিনি তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান। তাকে যে কক্ষে নির্যাতন করা হয়েছে সে কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকায় মেয়র তা দেখতে পেয়ে কিছুক্ষণ পর পর লোকজন পাঠানোর কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেননি।

তিনি বলেন, নির্যাতনকারীরা তার ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে বসুরহাটের একটি ক্লিনিকে পাঠায়। সেখান থেকে তার আত্মীয়স্বজনরা রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। একপর্যায়ে রাতে জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়।

এ বিষয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফ উদ্দিন আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ পৌর ভবন থেকে আহত অবস্থায় শহিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি শহিদ। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।