ত্যাগের মহিমা নিয়ে প্রতি বছর আসে কোরবানি। ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে এসে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া অনেক বড় ত্যাগের দৃষ্টান্ত। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার পোষ্টকামুরী গ্রামবাসী প্রতি বছরই এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন। বছরজুড়ে যত ভেদাভেদ আর দ্বন্দ্বই থাকুক, কোরবানি প্রতি বছর গ্রামবাসীকে এক কাতারে নিয়ে আসে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামবাসী সমাজবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে পশু কোরবানি করছেন।
এবার পোষ্টকামুরী গ্রামে ৯৫টি গরু ও ৯টি খাসি কোরবানি করা হয়েছে। কোরবানির মাংসের এক-তৃতীয়াংশ একত্র করে গ্রামের ১ হাজার ৩৫ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি দুই অংশ দাতারা রেখেছেন। প্রতি বছর শতাধিক পশু কোরবানি হলেও করোনার কারণে এ বছর কম হয়েছে।
জানা গেছে, পোষ্টকামুরী গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার লোকের বাস। এর মধ্যে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে শতাধিক মানুষের। তবে কোরবানির মাংস গ্রামের সব মানুষকেই মাথাপিছু হারে বিতরণ করা হয়। প্রতি বছর জনপ্রতি প্রায় এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হলেও এ বছর গরু কম কোরবানি হওয়ায় ১ হাজার ৩৫ পরিবারের ৪ হাজার ৯৯৫ জন সদস্যকে মাথাপিছু ৭৫০ গ্রাম করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাইরে থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে এক কেজি করে মাংস বিতরণ করেন গ্রামবাসী।
পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, গ্রামের সবার কোরবানির পশু ঈদের দিন এক মাঠে আনা হয়। পরে সবার মাংসের তিন ভাগের এক অংশ পৌঁছে দেওয়া হয় সামাজিক কাউন্টারে।