সারা দেশে গতকাল শুক্রবার থেকে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরে বিধিনিষেধ অমান্য করে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টগুলোও খোলা রেখে চলছে জমজমাট বেচাবিক্রি। এদিকটায় প্রশাসনের টহল না থাকায় মেলা ও রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। কোথাও কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। শুক্রবার বিকেলে পূর্বাচল উপশহরে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, সারা দেশে কঠোর লকডাউন পালনের কথা থাকলেও পূর্বাচল উপশহরে এখনো যায়নি ঈদের আমেজ। পূর্বাচল উপশহরের ২১ নং সেক্টরের স্বপ্নের ছোঁয়া, কুঁড়েঘর, লেকভিউসহ প্রায় সবকটি রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা হয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলোতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি শেষে খাবার খাচ্ছে। দর্শনার্থীদের আগমনে পূর্বাচলের লেকপাড়, ইকোপার্ক, নীলা মার্কেটসহ বেশকিছু স্থানে মেলা বসানো হয়েছে। মেলাগুলোতে নাগরদোলা, নৌকা দোলনা, হরেক রকমের খেলনার দোকানসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানের পসরা সাজানো হয়েছে। অভিভাবকরাও লকডাউন অমান্য করে তাদের সন্তানদের নিয়ে মেলাগুলোতে এসে ভিড় জমান। মেলা ও রেস্টুরেন্টগুলোতে কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। লকডাউন অমান্য করে প্রকাশ্যে এসব কর্মকা- চললেও পূর্বাচলে প্রশাসনকে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। লকডাউনের মধ্যে রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা ও মেলার ব্যাপারে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পূর্বাচলে মেলা ও রেস্টুরেন্ট খোলা রেখা হয়েছে। সরকারদলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা মেলার আয়োজন করেছেন। পূর্বাচলের বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টই সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ বলেন, পুলিশ প্রতিটি চেকপোস্টে ডিউটি করছে। মেলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু জেনেছি পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ্ নূসরাত জাহানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোর তিনটিতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলমান থাকলেও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অধিকাংশে তদারকি না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জেলায় করোনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া, কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতুসংলগ্ন গড়িলাবাড়ি, যমুনার নিউ ধলেশ্বরীর মোহনায় বেলটিয়া, আলীপুর, ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া-ধলাপাড়া সড়কে কাটাখালী এলাকায় বিনোদনপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। স্বাধ্যবিধি না মেনে এসব এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করছে। কেউ নৌকা ভাড়া নিয়ে আবার কেউ তীরে দাঁড়িয়ে যমুনায় অবগাহন ও তার আগ্রাসী রূপ প্রত্যক্ষ করছে। বাসুলিয়ায় নৌকা নিয়ে উচ্চস্বরে গান ও মিউজিকের তালে তালে চলে নৃত্য। নাচতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ৩৮ যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা তলিয়ে যায়। তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দেওপাড়া-ধলাপাড়া সড়কের কাটাখালীতে রীতিমতো পসরা সাজিয়ে ২০ টাকার টিকিটের মাধ্যমে কফি হাউজে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় করোনাকালেও এসব বিনোদনকেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে বাসুলিয়ার দিকে যাচ্ছেন। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। তিনি ওই এলাকায় মোবাইল টিম পাঠাচ্ছেন। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।