দেশে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আজ রবিবার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে। কঠোর বিধিনিষেধে জরুরি সেবা বাদে গার্মেন্টসসহ সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, কলকারখানা এবং গণ-পরিবহন বন্ধ থাকছে।
এতে করে আগামী দুই সপ্তাহ দেশের মূল অর্থনীতি প্রায় স্থবির হয়ে থাকছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার পরিস্থিতি কেমন হবে- তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বিনিয়োগকারীরা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শেয়ার দর হারিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাবে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আলাদা। করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়তে দেখা যায়। গত এক বছরে এমন চিত্রই দেখা গেছে বাজারে।
করোনাকালে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যাংকেও আমানত বাড়ছে। গত এক বছরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি বেড়েছে। ব্যাংক আমানতে সুদহার কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন ব্যক্তিশ্রেণির অনেক বিনিয়োগকারী।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ায় চাহিদা তৈরির মাধ্যমে অধিকাংশ শেয়ারের দর যেমন বাড়ছে, তেমনি সূচকও বর্তমানে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। করোনা সংক্রমণের গত সোয়া এক বছরে ‘লকডাউন’ পরিস্থিতির সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আর যেহেতু ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুঁজিবাজারও চালু থাকছে, তাই বিনিয়োগও আটকে থাকার ভয় নেই। এ সময়ে অন্যান্য ব্যবসা বন্ধ থাকায় পুঁজিবাজার চাঙ্গা থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত ২০ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের শেয়ার লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৮১ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৯৩টির বা প্রায় ৭৭ শতাংশের বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ৮৩টির বা পৌনে ২২ শতাংশের।
এর মধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত বীমা খাতের সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বাজারদর আইপিও ইস্যু মূল্যের তুলনায় সাতগুণ উন্নীত হয়েছে। ওটিসি থেকে মূল বাজারে ফেরা পেপার প্রসেসিং, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল এবং বিডি মনোস্পুল পেপারের বাজারদর গত এক মাসে দুই থেকে পাঁচগুণ হয়েছে।
পুরনো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬০টির শেয়ারদর ১০ থেকে ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
সর্বাধিক ৭৫ শতাংশের বেশি দর বেড়েছে জিলবাংলা, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফু-ওয়াং সিরামিক, অলিম্পিক এক্সেসরিজের। ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ দর বেড়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, জুট স্পিনার্স, ফ্যামিলিটেক্স, সিএনএটেক্স, মুন্নু ফেব্রিক্স এবং আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের। গত এক মাসে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা এই সব শেয়ারই রুগ্ণ বা দুর্বল মৌলভিত্তির। দরবৃদ্ধি তালিকার পরের ১০০ কোম্পানির মধ্যে হাতেগোনা দুই-চারটি অপেক্ষাকৃত ভালো কোম্পানি।