ফুলের সঙ্গে সহজাত আবেগের সম্পর্ক মানুষের। জাপানি শিল্প ইকেবানায় ফুল ও ডালপালার সমন্বয়ে তৈরি হয় এক ছিমছাম প্রাকৃতিক আবেশ। ঘরের কোণে সে আবেশ মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। পনের শতকে শুরু হওয়া এই শিল্পের উত্থান ও সাম্প্রতিক ইকেবানাশৈলী নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ইকেবানা
জাপানি আর্ট ইকেবানায় ফুল, শাখা-প্রশাখা, পাতা ও কাণ্ডের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এক ছিমছাম এক ফুলেল আবহ। ফুলদানিতে এক গোছা ফুল রাখার পশ্চিমা অভ্যাসের ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে ইকেবানা। এর লক্ষ্য ফুল ও অন্যান্য জীবন্ত উপকরণের সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। ইকেবানায় ফুল থাকতেই হবে এমনটি আবশ্যক নয়। তবে যা থাকবে সব মিলিয়ে যেন তা ঘরের কোণে প্রাকৃতিক আবহ এনে দেয়।
ইকেবানা ঠিক ভাস্কর্য নয়, আবার দৃশ্যমান দিক থেকে ভাস্কর্যের তুলনায় তেমন কম কিছুও নয়। রং, রেখা, ফর্ম ও কোন পরিবেশে রাখা হবে, সব বিবেচনায় আনতে হয়। সব মিলিয়ে ইকেবানা কীভাবে সাজাতে হবে তার একটি রূপরেখা পাওয়া যায়। এ শিল্পে বৈচিত্র্যময় ফর্ম, আকার ও গঠনের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তবে যাই বানানো হোক না কেন তা যেন দর্শকের জন্য নতুন চমকের সৃষ্টি করে। জাপানি সংস্কৃতিতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঋতুভিত্তিক দেশীয় ফুল, উদ্ভিদের দিকে নজর দেওয়া হয়। সেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মধ্যে আছে ঘাস। আবার মাস বিশেষে ও ঋতু বিবেচনায় সেখানে বিশেষ বিশেষ গাছ নির্দিষ্ট করা থাকে। নতুন বছর এলেই পাইন ও পাম শাখা, মার্চ মাসে নারী দিবসের জন্য ব্যবহৃত হয় পিচগাছের শাখা, বসন্তে নারসিসাস ও জাপানি আইরিশ, গ্রীষ্মে লিলি এবং শরতে ব্যবহার করা হয় ক্রিসানথেমুম ফুল। সব মিলিয়ে আধুনিক ইকেবানা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সংবেদনশীল শিল্পকর্ম হয়ে ওঠে।
ইকেবানায় ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পীরা তাই ফুল ও শাখাগুলোকে নতুন করে ছাঁটাই করেন। আকাশের দিকে ডালপালা ছড়িয়ে দিয়ে সে ভারসাম্য সঠিকভাবে বজায় রাখা আবশ্যক। ইকেবানায় কখনো ফুলদানিতে মাউন্ট করা হতে পারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাউন্টিংয়ের কোনো প্রয়োজন হয় না। সহজ, সরল ও ছিমছাম এই তিনের সমন্বয়ে ইকেবানা যথার্থই ঘরের ভেতরে প্রকৃতির ছোঁয়া নিয়ে আসতে পারে।
ইকেবানা শিল্পী
পেশাদার ও অপেশাদার উভয় ধরনের মানুষই ইকেবানা চর্চা করতে পারেন। শিল্পের অন্যান্য ফর্মের মতো মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারা শিল্পীর মুনশিয়ানা। একবার মৌলিক ফর্ম শিখে ফেললে পরে সে জিনিস বিন্যাস-সমাবেশের মাধ্যমে শিল্পী তার শিল্পের যথার্থতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। প্রকৃতিতে কিছুই নিখুঁত নয়। অথচ সেই প্রাকৃতিক উপকরণের সমন্বয়ে নিখুঁত শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলতে পারা শিল্পীর সার্থকতা। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে নবিশ শিল্পীদের শেখানো হয় কীভাবে একটি গাছের শাখা কাটতে হবে, ফুল কীভাবে কাটলে দীর্ঘক্ষণ সেটি ভালো থাকবে, কীভাবে শাখা ও কাণ্ডের সঠিক মাপের মাধ্যমে কত ডিগ্রি কোণে স্থাপন করা যায়, কীভাবে উপকরণ দীর্ঘসময় ভালো রাখতে হয়সহ একটি পরিষ্কার ওয়ার্কস্টেশন বজায় রাখা সব খুঁটিনাটি নিয়ে তৈরি করা হয় একটি ছিমছাম ইকেবানা।
শিল্পীদের আরও জানতে হয় কীভাবে এক-একটি উপকরণের দেখা মাত্র সেই উপকরণের সংবেদনশীলতা পরিমাপ করতে হয়। পরিবেশনে অভ্যন্তরীণ গুণাবলি বের করে নিয়ে আসতে হয়, কীভাবে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক-একটি ইকেবানা পরিবর্তিত হয়ে যায়। উপাদানগুলোতে যেন আধ্যাত্মিকতা বজায় থাকে। ইকেবানার এক-একটি স্টাইল স্বর্গ, মানুষ ও পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব করে।
একটি মৌলিক ইকেবানা তৈরির জন্য অগভীর পাত্রে পানি নেওয়া হয়। সে পাত্রে রাখা হয় একটি কেনজান। কেনজান একটি পিনভর্তি বস্তু, যা ফুল ও কাণ্ড আটকে রাখতে সাহায্য করে। এরপর শিল্পী দুটো শাখা নির্বাচন করে। বড় শাখাকে বলা হয় শিন, ছোটটি সোর। সেই সঙ্গে নির্বাচন করা হয় একটি ফুল, যাকে বলা হয় হিক। প্রতিটি শাখা নির্দিষ্ট মাপে কাটা হয়। কত ডিগ্রি কোণে এক-একটি শাখা কাটা হবে তা নির্ভর করছে কোন পরিবেশে তা রাখা হবে। সামঞ্জস্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখানে। বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হয় সম্পূর্ণ ইকেবানা বানানো শেষে কেনজানটি যেন দেখা না যায়।
শুরু
ইকেবানার শিকড় খুঁজতে গেলে ধর্মীয় দিকে চোখ দিতে হবে। ষোড়শ শতাব্দীতে চীন থেকে এই শিল্পের আগমন ঘটে জাপানে। জাপানিজ শিন্তো ধর্মের আনুষ্ঠানিকতার জন্য অথবা বৌদ্ধ ধর্মে পুষ্পস্তবক উৎসর্গের ঐতিহ্যের দিকে লক্ষ করলে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। পনেরোশ শতকের লেখা একটি বই পাওয়া যায় ইকেবানার ওপরে। ধারণা করা হয় ইকেবানার ওপরে লেখা প্রথম পাঠ্যবই এটি। প্রতœতাত্ত্বিক সেই বই থেকে দেখা যায় নির্দিষ্ট ঋতু ও অনুষ্ঠানের জন্য কীভাবে উপযুক্ত ইকেবানা তৈরি করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। বইয়ে নির্দেশাবলিতে উল্লেখ করা আছে ইকেবানার মাধ্যমে যেন প্রকৃতির প্রশংসা ও সংবেদনশীলতাকে মূর্ত করে তোলা যায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইকেবানা ধর্মীয় আবহ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। ধর্মনিরপেক্ষ ক্রিয়াকলাপের অংশ হিসেবে ঠাঁই পায় গৃহকোণে। আস্তে আস্তে জাপানি বাড়ির নকশায় পরিবর্তন আসে। নতুন সব বাড়িতেই নির্মিত হতে থাকে টোকোনোমা নামে একটি বিশেষ স্থান, যেখানে ইকেবানা বসানো হবে। ফলে জীবনযাত্রায় ইকেবানা যত মিশে গেছে তত বেশি সাধারণ মানুষের কাছে আরাধ্য হয়ে উঠেছে তা। ‘পরিবর্তন’-এর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা আছে জাপানিদের। প্রকৃতির অনিত্যতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে টোকোনোমায় ঋতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসে পরিবর্তন।
ঐতিহ্য
পঞ্চদশ শতকে টোকোনোমা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে ইকেবানা সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে শুরু করে। জাপানে বৌদ্ধধর্মের রীতি অনুসরণ করা ধর্মযাজকদের মধ্যে ক্রমেই ইকেবানা শিল্পীর আবির্ভাব ঘটতে থাকে। ধর্মযাজকদের একজন ছিলেন ইকেনোবো সেনকেই। ইকেবানায় তার দক্ষতার জন্য তাকে ইকেবানার প্রথম মাস্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইকেনোবো নিজে ধর্মযাজক হওয়া সত্ত্বেও ইকেবানাকে ধর্মীয় রীতির বাইরে নিয়ে আসতে সচেষ্ট ছিলেন। ফলে তার অনুসারিত ধর্মনিরপেক্ষ স্টাইলকে বলা হয় রিক্কা। জাপানি ভাষায় রিক্কা শব্দের অর্থ দাঁড়িয়ে থাকা ফুল। এ ধরনের ইকেবানা ৭ বা ৯টি মূল উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণত গাছের ডাল, দুই/তিন রকম ফুলের মিশ্রণ পাইন, ক্রিসানথেমুম, আইরিশ লিলি ও বক্সউড ব্যবহার করা হয়।
কেবল ঘরসজ্জায় ফুলের ব্যবহারই ইকেবানাকে জনপ্রিয় করেনি। আস্তে আস্তে সামাজিক অনুষ্ঠানে জড়িয়ে পড়তে থাকে ইকেবানা। চা অনুষ্ঠানের নান্দনিকতা বাড়ানোর জন্য ইকেবানার চল শুরু হয়। জাপানের বিখ্যাত চা মাস্টার সেন নো রিকু তার চা অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করেন। রিক্কা স্টাইল থেকে বেরিয়ে সেন নো রিকু স্থানীয় কারিগরের তৈরি সাধারণ ফুলদানিকে এক-একটি ডাল রাখতে শুরু করেন। এমনিতেও ইকেবানা বাহুল্যবর্জিত শিল্প, সেন নো এটিকে একেবারে সাদামাটা ভঙ্গিতে তুলে ধরেন। ফলে তার হাত দিয়ে গড়ে চর্চিত হতে থাকে ইকেবানার নতুন স্টাইল নাগেইরে। জাপানিজ নাগেইরে শব্দের অর্থ ছুড়ে মারা। নিয়মকানুন দূরে ঠেলে নাগেইরে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতামুক্ত স্টাইল হিসেবে জনপ্রিয় হওয়া শুরু হয়। রিক্কা যেখানে কম গভীরতাযুক্ত ছড়ানো পাত্রে বসানো হয়, সেখানে নাগেইরে লম্বা ফুলদানিতে রাখার চল শুরু করে। রিক্কা যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে বৌদ্ধ উৎস থেকে আসা, যেখানে নাগেইরে সরাসরি প্রকৃতির সঙ্গে বাহুল্যবর্জিত সংযোগে বিশ্বাসী। যদিও পরস্পরবিরোধী স্টাইল হিসেবে দুটো স্কুলই মানুষের কাছে সমানরকম জনপ্রিয়।
সাম্প্রতিক ইকেবানা
জাপানে ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত ইকেবানায় নতুন কোনো স্টাইলের আবির্ভাব ঘটেনি। বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনে জাপান সরকার আবার ইকেবানার চল মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। পশ্চিমা প্রভাবে পড়ে জাপানিরা ফুল সাজিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও পশ্চিমা রীতিনীতি গ্রহণ করতে শুরু করেন। ফলে ইকেবানার মতো স্থানীয় সংস্কৃতি পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে পড়ে আমূল পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। ১৯১২ সালে ইকেবানার প্রথম আধুনিক স্কুল ওহারা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা উনশিন ওহারা তার চর্চিত মোরিবানা স্টাইলকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। মোরিবানায় পশ্চিমা ফুলের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে আদি ও অকৃত্রিম স্থানীয় শিল্পের স্থান থেকে সরে ফিউশন আর্টের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে ইকেবানা। মোরিবানা স্টাইলের বাইরেও আছে ফ্রি স্টাইল। এ শৈলীতে শিল্পী কোনো স্টাইলের ধার না ঘেঁষে ইচ্ছেমতো ফুল সাজাতে পারেন।
১৯২৭ সালে সোগেৎসু স্টাইলের সূচনা করেন সফু তেশিগাহারা। সফু তেশিগাহারার বাবাও ইকেবানা মাস্টার ছিল। সোগেৎসুর মধ্য দিয়ে ইকেবানা আরও একদফা ভাস্কর্যের দিকে হাঁটতে শুরু করে। সফু তার দৃষ্টিভঙ্গির স্বাধীনতা ও অন্যান্য জীবন্ত উপকরণ ব্যবহার শুরু করেন। প্রকৃতির অংশ হিসেবে পাথর, মসের মতো অতি সাধারণ জিনিস ব্যবহার শুরু করেন তিনি। এরই মধ্য দিয়ে গুরুগম্ভীর শিল্পের জায়গা থেকে সরে আটপৌরে ছোঁয়া লাগতে শুরু করে ইকেবানায়। তিনি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতেন ইকেবানার সঙ্গে শিল্পীর জীবন ও সময়ের সংযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। ফলে তিনি আশপাশ থেকে ইকেবানার উপকরণ বাছাই করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ মেয়াদে যেই ইকেবানা সংরক্ষণ করা যায়, সে নিয়েও ভাবতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিক্কা স্টাইল মøান হতে শুরু করে। এরপরে যত বিস্তৃত হয়েছে ইকেবানার স্টাইল তত বেশি শুরুর দিকের স্টাইল থেকে সরে এসেছে তা। বর্তমানে ইকেনোবো, ওহারা ও সোগেৎসু সবচেয়ে জনপ্রিয়। জাপান জুড়ে প্রায় ৪০০টি স্কুল এই জনপ্রিয় ইকেবানা স্টাইল নিয়ে কাজ করছে।
ইকেবানা ইন্টারন্যাশনাল
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইকেবানাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেন এলেন গর্ডন অ্যালেন। এলেন জাপানে বসবাসের সময় ইকেবানার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে তিনি বুঝতে পারেন, সারা বিশ্বের মানুষকে এক করে দিতে পারে ইকেবানা। ১৯৫৬ সালে তিনি শুরু করেন অলাভজনক সংস্থা ইকেবানা ইন্টারন্যাশনাল। এই সংস্থার কাজ ছিল জাপানের প্রধান প্রধান ইকেবানা স্কুলের সঙ্গে একত্র হয়ে বিশ্বের দরবারে ইকেবানা শিল্পকে ছড়িয়ে দেবে। সংস্থাটির মূল বাণী ছিল ফুলের মাধ্যমে বন্ধুরা।
ইকেবানার মাধ্যমে প্রকৃতির ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি খুব সহজেই করতে পেরেছিল এই সংস্থাটি। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সংস্থার কাজ। বর্তমানে ৭ হাজার লোকের সদস্যপদ রয়েছে ইকেবানা ইন্টারন্যাশনালের। সংস্থাটি কোনো বিশেষ ধরনের ইকেবানার প্রতি অনুরক্ত নয়। বিভিন্ন স্কুলকে একটা বিস্তারিত সংগঠনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটিই করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। শৈলী, দর্শন, ইতিহাস ও কৌশলের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া থেকে শিল্পীরা উপকৃত হন। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত।
কয়েক দশকে ভালোভাবে বিকশিত হয়েছে এ শিল্প। ইকেবানার জন্য ‘উপায়’ শব্দের ভালো কোনো প্রতিশব্দ নেই। শিল্পের চেতনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে শিল্পীর জানার পথকে প্রসারিত করে এটি। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজের চর্চার পথকে বিকশিত করে এই শিল্প। সফু তেশিগাহারা ইকেবানা চর্চার ক্ষেত্রে বলেছিলেন, আত্মতুষ্টি নয়, প্রয়োজন কৌতূহল। ‘আমাদের শৈল্পিকতা আটকে না ফেলে আরও গভীরভাবে শিল্পের বিকাশে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি বেরোতে না পারি, কখনোই অসামান্য শিল্পী হয়ে উঠতে পারব না।’