কাগজের বিমান বানিয়ে গিনেস বুকে জন কলিন্স

অরিগ্যামি ও অ্যারোডাইনামিকস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন জন কলিন্স। তিনি পরিচিত ‘দ্য পেপার অ্যারোপ্লেন ম্যান’ হিসেবে। স্ত্রী সুজানের নামে ২০১২ সালে বানানো বিমান ২২৬ ফুট ১০ ইঞ্চি দূরত্ব উড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জনের নাম উঠিয়েছিল। কাগজের বিমান ও জন কলিন্সের পথযাত্রা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

স্বপ্নের ৩০ বছর

আমরা যখন কাগজ দিয়ে বিমান ওড়ানোর কথা ভাবি তখন আমাদের ভাবনায় বড় কোনো মানুষের চিন্তা আসে না। ছোটরা খেলার ছলে কাগজ দিয়ে বিমান বানিয়ে ওড়াচ্ছে এই দৃশ্যই সাধারণত মনে আসে। কিন্তু জন কলিন্স এই ভাবনায় ছেদ ঘটিয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এক নাগাড়ে বানিয়ে যাচ্ছেন কাগজের বিমান। কেন জন কাগজের বিমানেই নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিলেন? একই কাজে এত বছর ধরে কীভাবে তিনি নিবিষ্ট হয়ে আছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে জন কলিন্সের জবাব, ‘রাতারাতি বিষয়টি এমন হয়নি। ১৯৮৯ সালে আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। কাজেই আমাকে কিছুটা পেশাদার তখন হতেই হয়েছিল। যদি সেই সময় থেকে ধরা হয় তাহলে প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছি। দোকানের তাক থেকেই যখন বইটি সফল হলো, তখন ছোট ছোট করে বিভিন্ন দোকান আর লাইব্রেরিতে প্রেজেন্টেশন করতাম। তবে এসবের জন্য যে ভালো অর্থ পেতাম তা নয়। বইয়ের প্রচার করতে পেরেই খুশি ছিলাম। প্রথম বই মানে সে আমার প্রথম সন্তান। তার প্রতি প্রচুর মনোযোগ দিতে হয়, বড় স্বপ্ন থাকে। কাগজের বিমান নিয়ে বই লিখে কেউ ধনী হয় না। এখানে হতাশার কারণই থাকে বেশি। আমি কাগজের বিমান ভালোবাসি। যার কারণে বই নিয়ে আমি কাজ করে গিয়েছি।

২০১৬ সালে কর্মক্ষেত্রে একটি ভুলের কারণে সাড়ে তিন বছর আমাকে বেকার থাকতে হয়। আমি একটি ডিজিটাল ফাইল ভুল করে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম ফাইলটি আমি হারিয়ে ফেলেছি, কিন্তু পরে সেটি উদ্ধার করেছিলাম। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। এই এক দুর্ঘটনাই আমাকে অ্যারোপ্লেন ম্যান হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করেছে। আমার হাতে তখন প্রচুর সময় ছিল। কাগজ নিয়ে যতক্ষণ ইচ্ছা বসে থাকতে পারতাম। কথাগুলো এখন শুনে খুব স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি যখন কাজ করেছি তখন এতে অনেক ঝুঁকি ছিল। শুধু বিশ্বাস ছাড়া কোনোকিছুই মজুদ ছিল না এখানে। এক দশকেরও বেশি সময় মার্কেটিং ও টেলিভিশন প্রযোজনায় আমি কাজ করেছি। যারা মার্কেটিংয়ের জন্য অর্থ খরচ করেছেন কারও ক্ষতি হয়নি। তখনই বুঝেছিলাম, অন্যের পণ্যের মার্কেটিংয়ের জন্য যত কষ্ট করছি, ততটা নিজের পণ্যের জন্যও করতে হবে।

অনুষ্ঠান করে যে পরিমাণ অর্থ মিলত, তাতে একটি ক্রিয়েটিভ সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট চালানো যেত এমন নয়। অর্থের হিসাব না করলে যে সম্মান পেয়েছি সেটাই আমার জন্য অনেক। সে সময় একদল স্নাতক সম্পন্ন করা ছেলেমেয়ের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। তারা সবাই আমাকে খুব উৎসাহ দিয়েছে। সরাসরি প্রচার করা ৪৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে ২৪টি বিমান ওড়া দেখে সবাই অবাক হতো। প্রত্যেকবার সঠিকভাবে বিমান বানিয়ে ওড়ানো বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য। ওই মুহূর্তেই বলে দেওয়া যায়, কোন কাজটি সঠিক হচ্ছে, কোনটি নয়। বিমান নিয়ে লেখা বইটি বর্তমানে প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। কাজেই বলা যায়, আমার সুসময় আসলে এখন যাচ্ছে।’

২০১৫ সালে ‘Paper Planes’ নামে জনের কাজ নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের পর থেকে বিমান বানানোকে সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে নেওয়ার পর চালু করেন ন্যাশনাল পেপার অ্যারোপ্লেন কনটেস্ট। আমেরিকার স্পেস মিউজিয়াম, সায়েন্স মিউজিয়াম, লাইব্রেরি, স্কুলগুলোতেও বিমান বানানো শেখানোর কার্যক্রম পরিচালিত করেন। 

আগের পেশা

বই লেখা বা বিমান বানানো জনের প্রথম কাজ নয়। এর আগেও বেশ কিছু কাজ করে টিকে থাকতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আমার লেখাপড়া ছিল চিত্রকলায়। কাজ করেছি টেলিভিশনে। ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে ২০ বছরেরও বেশি সময় সরাসরি সংবাদ প্রচার করেছি। এরপর কমার্শিয়াল প্রোডাকশন যেমন প্রযোজনা, লেখালেখি, পরিচালনা, এডিটিং, টেলিভিশন কমার্শিয়ালে কণ্ঠ দেওয়ার কাজও করেছি। প্রতিটি কাজ করার সময়ই দারুণ লাগত আমার। যেমন আনন্দ পেতাম, তেমন চ্যালেঞ্জিংও ছিল কাজগুলো। এসবের পাশাপাশি অনেক বছর ধরে কাগজের বিমান নিয়ে লেখালেখি করেছি, অরিগ্যামি নিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমার চতুর্থ বইও প্রকাশিত হয়েছে। এবারের বইটি আমি নিজে প্রকাশ করেছি, যেন আমি যেমন চাই ঠিক তেমনই যেন বইটি হয়। আমাজনের কারণে বই বিক্রিতেও দারুণ সাড়া মিলছে।’

নতুন মোড়

জন যখন বুঝতে পেরেছিলেন কাগজের বিমানেও তিনি নতুনত্ব আনতে পারবেন, তখন থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। জন বলেন, ‘কাগজ যে আমার জীবন বদলাতে পারে, সম্ভবত বিষয়টি আমি বুঝতে পেরেছিলাম অল্প বয়স থেকে। নাইন বা টেনে পড়ার সময় থেকেই আমি আমার ভাইদের চেয়ে দ্রুত কাগজ ভাঁজ করতে পারতাম। বিভিন্ন জিনিস বানাতে বানাতে আমার মনে হলো, উড়ন্ত জিনিসের প্রতিও আমার বেশ আগ্রহ আছে। তবে এটি বুঝতেও আমার বেশ কিছুদিন সময় লেগেছে। বিখ্যাত অরিগ্যামি আর্টিস্টদের নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ার সময় জেনেছিলাম আমার বিমান বানানোও অনন্য হয়ে উঠতে পারে। আমি আগে থেকেই জানতাম কাগজ কীভাবে ভাঁজ করতে হয়। অরিগ্যামি এ ক্ষেত্রে আমাকে আরও সাহায্য করল। এই শিল্পকে ধারণ করতে আমার দশ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিটি পদ্ধতিকে আমি বিমানের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছি। অন্য কারও নির্দেশনায় কোনো কিছু বানানো অনেক সহজ। কিন্তু কোন জায়গায় কীভাবে আর কেন ভাঁজ দেওয়া হয়, সেটি খুঁজে বের করতে পারলে আরও ভালো লাগে। এটি খুঁজে বের করার জন্য প্রচুর পড়তে হয়, বারবার একই পড়া রিভিশন দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। কারণ এখানে পুরোটাই সময়ের খেলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিগ্যামির এক মাধ্যমে কাজ করতে করতে নতুন কৌশল যুক্ত করার জন্য দশ হাজার ঘণ্টার প্রয়োজন হয়। এরপর শুধু কৌশল ভাবলেই হয় না। এর সঙ্গে আপনার চিন্তা যুক্ত করতে হয়, কীভাবে নতুন কৌশলটি অন্যকে বোঝাবেন সেজন্য রংতুলির প্রয়োজন হয়, ভিডিও করতে গেলে বাদ্যযন্ত্র লাগে। আর একবার সব করে ফেলতে পারলেই জীবনের মোড় ঘুরতে সময় লাগার কথা নয়।’

অসফলতা

সবাই সফলতার ঘটনা শুনতে পছন্দ করে। কিন্তু সফল হওয়ার আগে প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে অসফলতার অনেক ঘটনা। জনের ব্যাপারেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। একেকটি অসাধারণ বিমান বানানোর আগে মন খারাপের গল্প তৈরি হয়েছে অনেকবার। জন বলেন, ‘কতবার অসফল হয়েছি এটি দারুণ একটি প্রশ্ন। প্রথম যখন কাজ করেছি তখন সেটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। তবে আমার কাছে ব্যাপারটি খুব মজা লেগেছিল। আমার কাছে যেকোনো কাজের ফল এলেই হলো। সফল বা অসফল নিয়ে আমি ভাবি না। যেমন, বিজ্ঞানের যেকোনো গবেষণায় কখনো ভুল ফল আসে না। এটা কেবল তথ্য-উপাত্ত মাত্র। এখান থেকে পাওয়া তথ্য থেকেই সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়।

প্রথমবার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভাঙার ঘটনার সময় আমি নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। স্পন্সরদের ফোন দিয়ে বললাম, আমি এটা করতে পারব না। ফোন এলেই আমি ভয় পাচ্ছিলাম। রাতের পর রাত আমি জেগে থাকতাম। শুধু মনে হচ্ছিল, আমার জন্য ক্যামেরা, ভেন্যু, খাবার, জায়গার নির্ধারক সবাই অর্থ দিয়েছে। তাদের সবার জন্য হলেও আমাকে কথা বলতে হবে। একের পর এক সবাই আমাকে শুধু একটা প্রশ্নই করে যাচ্ছিল, ‘তুমি কাজটা করবে তো, তাই না?’

এ ঘটনাটি আমাকে ব্যবসায়িক মানুষ ও জীবন নিয়ে খুব ভালো একটি শিক্ষা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ধরে নেয় এ কাজে ক্ষতি হতে পারে। আমি জিতলে তাদের লাভ বেশি। আমার জয়টা সহজ। বরং হেরে যাওয়াই কঠিন। হেরে যাওয়ার পুরো বিষয়টাই নির্ভর করে নিজের ওপর। যদি আপনি ভাবেন আপনি হারবেন, তবে সেখানেই হেরে যাওয়ার শুরু।

প্রথম বিমান বানিয়ে যেমন ফল ভেবেছিলাম, তেমন হলো না। বিমানে সঠিক আকৃতি দেওয়ার পরেও ওড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাখাগুলো ভাঁজ হয়ে গেল। যতটুকু ওড়ার কথা ততটুকু উড়ল না। কেন এমন হলো খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, পাতলা কাগজ ব্যবহারের কারণে এমন হয়েছে। তখন বিমানটি দেখাচ্ছিল বাদুড়ের মতো। এর আমি নাম দিয়েছি ‘ব্যাট প্লেন’ (বাদুড় বিমান)।

বুমেরাং টু বানানোর সময় ভেবেছিলাম এটি অবশ্যই বুমেরাং ওয়ানের মতোই কাজ করবে। কিন্তু যেমন ভেবেছিলাম কাজ হলো তার উল্টো। বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার তৈরি করতে গিয়ে অভিকর্ষের কেন্দ্রটি একদম পেছন দিকে চলে গিয়েছিল। স্বভাবতই বিমান উড়তে গিয়ে বিধ্বস্ত হলো। কয়েকবার ওড়ানোর পরও সেটি আমার পায়ের ওপরেই এসে পড়ল। বিমান কেন ওড়া থামায় সেটার আরও একটি কারণ আমার সামনে এলো। কয়েক সপ্তাহ লেগে গেল এ সমস্যার সমাধান করতে। ততদিনে আমার অনুষ্ঠানের জন্য একটি প্লেন বানিয়েছিলাম, যেটি একই সঙ্গে ওপরে ও নিচে উড়বে, আবার ফিরেও আসবে। আমি মনে করি, উদ্ভাবনের ইতিহাস এমনই।’

কাজ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা

একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে অনেকের বিরক্ত লাগা শুরু হয়। এক নিয়মে রোজ কাজ করতে গিয়ে কখনো মাঝপথে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হয়েছে কি না তা নিয়ে জন বলেন, ‘কাগজ দিয়ে বিমান বানানোর কাজটি আমার জন্য সব সময় ভালোবাসার। কীভাবে কাগজ ভাঁজ করতে হয়, কীভাবে সেটি বাতাসে উড়বে প্রতিটি পদ্ধতিই যেন একেকটি ম্যাজিক। এটা মেডিটেশনের চেয়ে কোনো অংশেই কম না। একটি ঘটনা আমার এখনো মনে পড়ে। একটি করপোরেট ইভেন্টের জন্য ১৫০০ বিমান বানিয়েছিলাম। বানানো শেষে মনে হচ্ছিল এত দ্রুত বানিয়ে ফেললাম? প্রেজেন্টেশন, ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান যেকোনো আয়োজনে বিমান বানানো আমার কাছে কখনো একঘেয়ে লাগে না। সব সময় কাজকে আরও ভালো করার জন্য উপায় খুঁজতে থাকি। প্রতিটি বিমান আসলে এক একটি সুযোগ। আমার কাছে এই কাজ প্রতিনিয়ত আনন্দের, সতেজতার।’

বিশ্ব রেকর্ড

বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার জন্য জন কলিন্স যে প্রজেক্টটি নিয়ে কাজ করছিলেন সেটির নাম ‘গ্লাইডার প্রজেক্ট’ (ইঞ্জিন ছাড়া হালকা বিমান)। এই কাজ করতে জনের প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। সঠিকভাবে নিক্ষেপণ, এরপর গ্লাইডার নকশা তাতে যুক্ত করা সব মিলিয়ে বেশ সময় লেগে গিয়েছিল। জন বলেন, ‘যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে কাজটি অনেক কঠিন ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে, গ্লাইডার বানানোর নিয়ম একদম সাধারণ বিমানের মতো। একদম শুরুতে এ৪ কাগজ দিয়ে আমি যে বিমান বানিয়েছিলাম এটা ঠিক তেমনভাবেই বানাতে হয়। অবশ্যই এতে আরও কাজ করতে হয়েছে। যেমন পাখার দৈর্ঘ্য এবং বিভিন্ন জায়গায় শক্তি বাড়াতে হয়েছে, ডাইহেড্রালেও (শেষের বড় অংশ) কাজ করতে হয়েছে। তবে ভাঁজের কাজগুলো প্রথম চেষ্টায় ভালোভাবেই করতে পেরেছিলাম।’

বিমান বানানোর জন্য জনের নির্দিষ্ট কোনো পছন্দের কাগজ নেই। বিষয়টা এমন যেন, পছন্দের সন্তান বেছে নিতে বলা হচ্ছে। পছন্দের কাগজ থাকলেও সেটি নিয়ে কখনো জনসম্মুখে কথা বলেন না জন।

বইয়ের পাঠক

জন কলিন্সের বইগুলো কীভাবে প্লেন বানানো হয় তা নিয়ে। এই বইয়ের পাঠক কারা সে নিয়ে জন বলেন, ‘আমার বইয়ের সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এর পাঠক সবাই। সব বয়সীই এই বই কেনে। আমার মনে হয়, সবার ভেতরেই কিছু না কিছু বানানোর সত্যিকার ক্ষুধা আছে। সেটা খুব সাধারণ একটি বিমানই হোক না কেন। মানুষ জন্মগতভাবে জিনিস বানানোর ক্ষমতা নিয়ে আসে। আমরা যখন নিজের জীবন থেকে অথবা কল্পনাশক্তি দিয়ে গল্প বলি, সেটাও কিন্তু বলার ক্ষমতা। এভাবেই ‘টক থেরাপি’ কাজ করে। আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় কিছু না কিছু বানাতে চায়। এজন্যই আমরা হাত দিয়ে কিছু না কিছু বানাই, গল্প বলি, অনুষ্ঠান সাজাই, খাবার রান্না করি, কাপড় তৈরি করি এক কথায় আমরা তৈরি করতে ভালোবাসি। নিয়মিত কাজ করে তার ফল ভালো আসার মধ্যে ভালো লাগাও অনেক। এজন্যই দিন দিন আমার বইয়ের পাঠক বাড়ছে।’

শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ

কাগজের বিমান বানানোর জন্য জন অ্যারোডায়নামিকস ও জিওমেট্রি খুব ভালো করে পড়েছেন জন। কারণ ভাঁজের দক্ষতায় মাপ সঠিক হওয়া জরুরি। তাই তার পরামর্শ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খুব সহজে বইটির সাহায্যে এসব বিষয়ে বোঝাতে পারেন। জনের মতে, ‘বইটি পড়া শুরু করলেই বুঝতে পারবেন এতে কত আনন্দ লুকিয়ে আছে। প্রতিটি কাজ একেকটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মতো। কাগজের বিমানের ক্ষেত্রে সেটি কত ভালোভাবে উড়ল, কতটুকু গেল, কীভাবে নিক্ষেপণ করলেন প্রতিটি তথ্য লিখে রাখুন। সেগুলো বিশ্লেষণ করুন, নতুন আরেকটি অনুমান করে তা নিয়ে আবার কাজ করুন। দেখবেন একেকটি বিমানের ক্ষেত্রে ফল একেক ধরনের আসছে। কাগজের বিমানও ছোট মোটর বসানো, গতি অনুসরণ করা, থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজিং, প্রাথমিক জিওম্যাট্রিক শেপ, বীজগণিত সবকিছু নিয়ে বুঝতে সাহায্য করে। এগুলো শিখলে গণিত করতে গিয়ে সহজ হয়ে যায় অনেক কিছু। তাই একদম প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শুরু করে হাইস্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এই বই সহকারী হতে পারে। কোথাও বুঝতে সমস্য হলে  https://www.thepaperairplaneguy.com/ এই ওয়েবসাইট ভিজিট করে আমার ই-মেইল আইডিতে প্রশ্ন পাঠালেই হবে। আমি উত্তর লিখে দেব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জন কলিন্স পেশাদার অ্যারোপ্লেন বানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙেছেন, টিভিতে কাজ করেছেন, বই লিখেছেন, বিশ্ব ঘুরে দেখেছেন, অনেক দর্শকের সামনে কথা বলেছেন। তবে কি তার আর কিছুই করার নেই? এ কথা যে সত্যি নয় তা জানালেন জন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব রেকর্ড একের পর এক আসে। সময় কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। এই রেকর্ডও এক জায়গায় আটকে থাকবে না। গত বছর যে ফল ছিল, পরের বছর চেষ্টা থাকবে আরও ভালো কিছু করার। আমি বই লিখতে পছন্দ করি। প্রচলিত কাগজগুলো দিয়ে কীভাবে প্লেন বানানো যায় তা নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছা আছে। এমন বই এখনো আছে। তবে প্লেনের ধরনগুলো আমার ভালো লাগে না। আমার মনে হয় এ নিয়ে কাজ করার বড় একটি সুযোগ রয়েছে আমার।’