এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যেটি চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) হিসাবমতে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরের ৪৭ জন। বাকিরা ঢাকার। চলতি মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩০৭ জন। গত জুন মাসে ২৭২ এবং মে মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। তবে রাজধানীতে ৪৬০ ও রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু সন্দেহে মারা যাওয়া তিনজন রোগীর তথ্য পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। তবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেনি আইইডিসিআর।

সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে আগের বছরগুলোতে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা গেছে জুন-জুলাই মাসে। কয়েক দিনের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি এডিস মশার বংশ বিস্তারে প্রভাব ফেলছে। করোনা আর ডেঙ্গুর উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় জ¦র হলে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। ওই বছর প্রথমবারের মতো সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ায় এবং এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। ২০২০ সালে মশাবাহিত এ রোগের প্রকোপ কিছুটা কম ছিল। ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। এদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু ডেঙ্গু সন্দেহে নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হলে সাতজনের মৃত্যু এ রোগে হয়েছে বলে নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল : ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে নির্মাণাধীন ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছে। আমরা একদিকে নন-কভিড রোগীর চিকিৎসা, অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা, অন্যদিকে টেস্ট ও ভ্যাকসিন সব মিলিয়ে একসঙ্গে করতে হচ্ছে। তাই আমরা আজকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত করেছি, যেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেব। কারণ যেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।’