একনেকে ৫৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে আগামীকাল

আন্ডারপাস ও ইউলুপ হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার যানজট কমিয়ে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা কমাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মাণ করা হচ্ছে তিনটি আন্ডারপাস। এ ছাড়া কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার ইন্টারসেকশনে ইউলুপ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৫৬৮ কোটি টাকা। আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে যোগ দেবেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সভার বিস্তারিত ব্রিফ করবেন।

একনেক সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজার ইন্টারসেকশনে ইউলুপ নির্মাণ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করে টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

সওজ বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার ইন্টারসেকশনে ইউলুপ ও একটি আন্ডারপাস এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলী গেটসংলগ্ন স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে (এন-১) দুটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর শুরুর পর ২০২৪ সালের জুন নাগাদ এর কাজ শেষ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) রাজধানী ঢাকাকে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী যোগাযোগের অন্যতম করিডর হিসেবে বিবেচিত। এই করিডরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু সড়কটি আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহাসড়কের মেরুদন্ড, এটির বর্তমান এবং ভবিষ্যতের ট্রাফিক চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষমতা এবং গতিশীলতা থাকা অপরিহার্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) এবং কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৪০) দুটি পদুয়ার বাজারে এসে মিলিত হয়ে চার রাস্তার মোড় তৈরি করেছে। এ মোড়ে ঢাকা-চাঁদপুর, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা, কুমিল্লা-চাঁদপুর এবং চাঁদপুর-চট্টগ্রামগামী বিপুলসংখ্যক যানবাহনকে কম-বেশি ৫০০ মিটারের মধ্যে ইউটার্ন করতে হয়।

ফলে এ জায়গায় অধিকাংশ সময় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তা ছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলী গেট এলাকায়ও তীব্র যানজট দূর করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইও করা হয়েছে। পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৬৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অ্যাপ্রোচ সড়কসহ ২ হাজার ১৪২ মিটার ইউলুপ নির্মাণ, ৩টি আন্ডারপাস নির্মাণ, ১ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ১টি গ্রেডার, ১টি ডবল কেবিন পিকআপ, ১টি মোটরসাইকেল ও ১টি ট্রাক ক্রয়। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ল্যান্ডস্কেপ, ইউটিলিটি সিফটিং, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে।