উইন্ডিজের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারে মনোবলে ধাক্কা লেগেছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২-১ ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ সফরে রওনা হওয়ার আগেই সেই ধাক্কা সামলে নিয়েছে অজিরা। ব্রিজটাউনে সোমবারের ডে-নাইট শেষ ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ৪৫.১ ওভারে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজ। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রায় ২০ ওভার হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া। বড় জয়ে ভূমিকা রাখেন ৫১ রানে অপরাজিত ম্যাথু ওয়েড।
হারের পর বার্বাডোজের পিচ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। বলেছেন, ‘সিরিজ হারের অজুহাত দিতে চাই না। তবে সত্যি হলো আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন খারাপ পিচ আশা করা যায় না। সেন্ট লুসিয়াতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের পিচ খুব ভালো ছিল। তবে বার্বাডোজের এই পিচ একেবারেই খেলার উপযুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুটি সেরা দল মুখোমুখি হচ্ছে। তাই ভালো পিচ তৈরি করা উচিত ছিল। এটা তো আমাদের দেশের লজ্জা।’ তবে ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হওয়া অ্যাস্টন অ্যাগার কিন্তু পোলার্ডের মতো উইকেটের দোষ দিতে রাজি নন, ‘পিচ মোটেও খারাপ ছিল না। ধীর গতিতে বল আসছিল। ফলে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। তবে আমাদের জোরে বোলাররাও কিন্তু পিছিয়ে ছিল না। মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড পাঁচটি উইকেট নিয়েছে। এতেই বোঝা যায় আমাদের দল পিচকে আরও ভালোভাবে বুঝেছিল।’
টসে জিতে কেনসিংটন ওভালে আগে ব্যাটিং নিয়েছিল উইন্ডিজ। শুরুতেই এভিন লুইস আহত হন হ্যাজলউডের বলে। চতুর্থ ওভারে লাফিয়ে ওঠা একটি বল তার হেলমেটে লাগলে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে ৭১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ক্যারিবিয়ানরা। শেই হোপ, ড্যারেন ব্রাভো, কাইরন পোলার্ড কিংবা নিকোলাস পুরানরা তেমন কিছু করতে পারেননি। ফলে লুইস আবারও মাঠে ফেরেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মিচেল স্টার্ক নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যাস্টন টার্নার ও জশ হ্যাজলউড। একটি করে নেন অ্যাস্টন অ্যাগার ও অ্যাডাম জাম্পা। অস্ট্রেলিয়া ২৭ রানে দুই ওপেনার মোজেস হেনরিকস আর জশ ফিলিপকে হারালেও সহজে জয় পেয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অ্যালেক্স ক্যারি ৩৯ আর মিচেল মার্শ ২৯ করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাথু ওয়েড ৫২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন। স্বাগতিকদের পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন শেলডন কটরেল, আকিল হুসেন, আলঝারি জোসেফ ও হেইডেন ওয়ালশ।