দিন যত যাচ্ছে সোনারগাঁয়ে করোনা পরিস্থিতি ততই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সোনারগাঁয়ে মারা গেছেন ৭ জন। করোনা শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে চারশ। ঈদের পর ক্রমাগত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৫ ও ২৬ জুলাই টানা দুদিন উপজেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল শতভাগ।
এমন পরিস্থিতিতেও সোনারগাঁয়ে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে মানানো যাচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ঈদের পর গত ২৩ জুলাই লক ডাউন শুরু হলেও লক ডাউন অমান্য করে সোনারগাঁয়ের রাস্তাঘাটে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে ঈদ-বিনোদনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও মেঘনা নদীতে দল বেঁধে গাদাগাদি করে নৌ-ভ্রমণে বের হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রতিদিনই মেঘনা নদীর ছটাকিয়া ঘাটে মানুষের ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। উপজেলার পৌর এলাকা ছাড়া বাকি দশটি ইউনিয়নে লকডাউন মানার প্রবণতা নেই বললেই চলে। সেখানে প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্য বিধি।
এদিকে উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলোর সামনের গেইট বন্ধ রেখে পেছনের গেইট খুলে দিব্যি বেচাকেনা চলছে। স্থানীয় রাস্তাগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশা, অটোরিকশার চলাচল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া জনসমাগম করে দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও করা হচ্ছে করোনার বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে।
প্রশাসনের লোকজন অভিযানে বের হলে সাময়িকভাবে মানুষ রাস্তা থেকে সরে যাচ্ছে, কিন্তু পরক্ষণেই আবার জড়ো হচ্ছে। দেশের করোনার বিপজ্জনক হটস্পট হিসেবে ১১টি জেলার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সুতরাং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার সাহা জানান, সোনারগাঁয়ে করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ঈদের পর থেকে শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। এখানকার মানুষের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ সচেতনতা নেই। মানুষ লক ডাউনের কোনো বিধিনিষেধই মানছে না। দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করছে। দেখে মনে হয় এখানে কোনো লক ডাউনই নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সোনারগাঁয়ের করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, লক ডাউন বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ স্বাস্থ্যবিধি ভঙের অপরাধে আটক করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক কম।