মুহূর্তের ভুলে স্বপ্ন ভাঙল রোমান সানার

সকালেই টোকিও থেকে ভেসে এলো সুসংবাদ। অলিম্পিকের পুরুষ রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টের মূলপর্বের প্রথম রাউন্ডে ইংলিশ প্রতিপক্ষ টম হলকে ৭-৩ সেট পয়েন্টে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছেন রোমান সানা। প্রথম কোনো বাংলাদেশি অলিম্পিয়ানের নকআউট পর্বে জয়ের নতুন ইতিহাসও গড়া হয়েছিল তাতে। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ কানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাস। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ২৩তম স্থানে থাকা রোমানের চেয়ে যিনি পিছিয়ে ১৩ ধাপ। এই ম্যাচটা জিতে রোমানের সামনে ছিল নিজেকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। সেই লক্ষ্যে ভালোই এগোচ্ছিলেন রোমান। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচের শেষ হাসিটা অবশ্য হাসতে পারেননি তিনি। শেষ সেটের শেষ তীরটা ঠিকঠাক লক্ষ্যভেদ হলেই ম্যাচটা জিতে যান তিনি। কিন্তু মুহূর্তের ভুলে ম্যাচটি ৬-৪ সেট পয়েন্টে হেরে টোকিও অলিম্পিক থেকে কষ্টের বিদায় হলো রোমান সানার।

র‌্যাংকিং রাউন্ডের পরই মূলপর্বের প্রথম রাউন্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে টম হলকে পেয়ে প্রত্যয়ী কণ্ঠে জয়ের কথা বলেছিলেন রোমান। তবে মূলপর্বের আগের দিন দ্বিতীয় রাউন্ডকে কঠিন পরীক্ষা বলে দাবি করেছিলেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। দুটিই সত্য হয়েছে। প্রথম রাউন্ডের পাঁচ সেটে ছয়বার পারফেক্ট-১০-এ লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচটা নিজের করে নিয়েছিলেন। ম্যাচের প্রথম সেট ২৬-২৫ পয়েন্টে জিতে শুরু করেছিলেন রোমান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট অবশ্য ২৫-২৮, ২৯-২৯ পয়েন্টে হেরে পিছিয়ে পড়েন তিনি। চতুর্থ সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোমান জেতেন ২৭-২৬ পয়েন্টে। সেট পয়েন্টে ৪-৪ সমতা নিয়ে পঞ্চম সেট শুরু করেন দুজন। শেষ সেটে তিন সিরিজের প্রথমটায় ৭ পয়েন্ট ছুড়ে রোমানের সামনে দারুণ সুযোগ করে দিয়েছিলেন ডুয়েনাস। ৯ মেরে সে সুযোগটাই নিয়েও ছিলেন রোমান। পরের সিরিজে অবশ্য ডুয়েনাস ১০ মারেন। আর রোমানের তীর আঘাত হানে ৮-এ। ফলে সেটে তখন ১৭-১৭ সমতা। ডুয়েনাস সিরিজের শেষ তীর ছুড়েন ৯-এ। ম্যাচটা জিততে রোমানের প্রয়োজন ছিল ১০। নিদেনপক্ষে ৯ হলেও ম্যাচটা গড়াত টাইব্রেকারে। কিন্তু শেষ প্রচেষ্টায় রোমানের নড়বড়ে তীর গিয়ে আঘাত হানে ৮-এ। পঞ্চম সেট ২৬-২৫ পয়েন্টে জিতে ডুয়েনাস হাসেন শেষ হাসি।

দিনের শুরুটা রোমানের হয়েছিল দুর্দান্ত। ইংলিশ আর্চার টম হলের সঙ্গে প্রথম সেট ড্র করার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ৫-১ সেট পয়েন্টে এগিয়ে যান রোমান। চতুর্থ সেট জিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হল। কিন্তু পঞ্চম সেট ২৯-২৭ পয়েন্টে জিতে ম্যাচটা নিজের করে নেন রোমান।

মুঠোয় থাকা জয় ফসকে যাওয়ায় হতাশ রোমান ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘হতাশ তো অবশ্যই। কারণ ১০ মারলেই ম্যাচটা জিততে পারতাম। খুব ভালো একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। যাই হোক, আমি ২০২৯ অলিম্পিকের স্বর্ণপদকের লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করব। একই সঙ্গে চেষ্টা থাকবে ২০২৪ অলিম্পিকেও ভালো করার।’ কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ মনে করেন দারুণ একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছেন রোমান, ‘কানাডিয়ান আর্চার রোমানের সামনে একটা দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল শেষ সেটের প্রথম সিরিজে ৭ তুলে। কিন্তু রোমান সেটা দিয়ে প্রবেশ করতে পারল না। শেষ তীরে অল্পের জন্য হেরে গেল সে।’ তারপরও রোমানের পারফরম্যান্সে হতাশ নন কোচ, ‘সব মিলিয়ে তার পারফরম্যান্সে আমি খুব হতাশ নই। তবে খুব খুশি হওয়ারও কোনো কারণ নেই। ও সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিল। শেষ তীরে হয়তো অতটা আক্রমণাত্মক ছিল না। একটু রক্ষণাত্মক হয়েই তীর ছুড়েছিল। এই জায়গাটায় আমার মনে হয় আরও কাজ করতে হবে। এমন পর্যায়ে কী করে চাপ মোকাবিলা করে ভালো করা যায়, সেভাবেই অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হবে।’

বৃহস্পতিবার নারী এককের মূলপর্বে বেলারুশের প্রতিযোগীর বিপক্ষে খেলতে নামবেন বাংলাদেশের অপর আর্চার দিয়া সিদ্দিকী।