করোনা মহামারীতে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে বেকায়দায় পড়েছেন বহু প্রবাসী। সরকার এসব ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৃত কর্মীদের পরিবারকে পুনরেকত্রীকরণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এদের জন্য নেওয়া হচ্ছে একটি প্রকল্প।
প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে করোনার কারণে বিদেশফেরত প্রায় ২ লাখ কর্মীকে ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সেলিং করা হবে। এরপর প্রত্যেক কর্মীকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
এছাড়া করোনার কারণে বিদেশ প্রত্যাগত বিভিন্ন কাজে দক্ষ ২৩ হাজার ৫০০ কর্মীকে বাছাই করে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ জোগাড় এবং তাদের দেশে-বিদেশে চাকরি পেতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। পর্যায়ক্রমে এ প্রকল্পের ব্যাপ্তি বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অধীনে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সাল নাগাদ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ধরা হয়েছে ৪২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি থেকে আসবে ২ কোটি ৩০ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক দেবে ৪২৫ কোটি টাকা।
দেশের ৩২টি জেলাথ ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে এটি বাস্তবায়ন হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের আওতায় বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনে আর্থিক, কারিগরিসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, ঋণ বা আর্থিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কার্যক্রম ও ছোট ব্যবসায়ের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্তকরণ, বোর্ডের কল্যাণমূলক সেবাসমূহ (প্রত্যাগত কর্মীসহ) সাধারণ মানুষকে অবহিতকরণে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা-সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজনসহ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারের ব্যবস্থা ও ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সেলিং শেষে এককালীন নগদ অর্থ (ক্যাশ ইনসেনটিভ), দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আরপিএলের (রিকগনাইজেশন অব প্রিয়র লার্নিং) মাধ্যমে দক্ষতা সনদ, পুনরায় বিদেশগমনে সহায়তা, কল্যাণমূলক সেবা জোরদার করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা বলছেন, এই সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে তা করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যাগত কর্মীদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেবে। প্রকল্পটি বুধবার একনেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্র্যাক, ইউএন ওমেন ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের যৌথ গবেষণার তথ্য অনুসারে, গত বছর এপ্রিল-নভেম্বর সময়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রায় ৭৭ শতাংশ দেশে চাকরি খুঁজেছেন। এছাড়া ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য সরকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানা উদ্যোগ নিলেও তার সুফল মিলছে না। এমন প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনে আগে ১৫টি জেলায় একটি পাইলট কর্মসূচি নেওয়া হয়। এখন বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বড় পরিসরে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এ প্রকল্প করোনায় বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখবে।’