ভুয়া চালানে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচারচেষ্টা

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল থেকে ভুয়া চালানে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচারচেষ্টার মামলায় আরও দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন পাবনা সদর উপজেলার শ্রীপুর পারচিথুলিয়া গ্রামের শাহিদ মেকারের ছেলে সোহেল ফকির (৪২) ও ভাউডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিন মন্ডলের ছেলে নাছিম হোসেন (২৯)।

আবু মারুফ জানান, এ দুজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচারচেষ্টার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়েছে। গত ২৩ জুলাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভুয়া চালানের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচারের চেষ্টা করে একটি চক্র। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তিন ট্রাকচালক ও তাদের তিন সহকারীকে আটক এবং ট্রাকগুলো জব্দ করে। পরে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসল প্রতারকদের গ্রেপ্তার করল।

জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল ও নাছিম জানান, দীর্ঘদিন তারা ফাঁদে ফেলে গাড়ির চালক থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জুলাই দিনাজপুরের ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মনজুরুল আলমকে ফোন করে সোহেল ফকির নিজেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম পরিচয় দেন। এ সময় হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনের খালি সিলিন্ডার ঢাকা এবং ঢাকা থেকে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার হাসপাতালে আনার জন্য ৪০ হাজার টাকা করে তিনটি ট্রাক ভাড়া করেন। মনজুরুল আলমের মধ্যস্থতায় তিন ট্রাকচালক ফোনে সোহেলের সঙ্গে কথা বলে সব বুঝে নেন। এরপর ভাড়ার চালান নিয়ে তারা হাসপাতাল এসে ফোন দিলে সোহেল মেডিকেল থেকে আসতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল ফ্রি করে দেওয়ার কথা বলে তিনি চালকদের কাছে বিকাশে তিন হাজার টাকা চান। টাকা পেয়েই ফোন বন্ধ করে দেন সোহেল।

উপকমিশনার আবু মারুফ জানান, সোহেল ও নাছিম গত ২-৩ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গাড়ির পেছনে থাকা নম্বর সংগ্রহ করে ট্রাক ভাড়ার নামে প্রতারণা করে আসছেন। তবে করোনাকালে অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিবহনের নামে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা খেলেন।