নরসিংদীর মনোহরদীতে সাংবাদিক পরিচয়ে এক যুবক তালিকাভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তার ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই উপজেলার শরিফুল ইসলাম শাকিল নামে ওই যুবক এ হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মো. আ. মান্নান ঢালী নামে ওই মুক্তিযোদ্ধা। এ ঘটনায় গত সোমবার নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও ২০১৭ সালে একই যুবকের বিরুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হয়রানি ও তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
ভুক্তভোগী মান্নান তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে সাংবাদিক পরিচয়ে তার কাছে ফোন করেন শাকিল। ওই সময় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শিগগিরই তার (শাকিল) সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন তিনি। দেখা করার পর তাকে (মান্নান) ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তার সম্মানী ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান শাকিল। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মান্নান।
এর আগেও বিভিন্ন সময় শাকিলের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির অভিযোগ এনে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন একই উপজেলার খিদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল ও চন্দনবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আ. রউফ হিরন।
এ ঘটনায় মনোহরদীর বাসিন্দা বাংলাদেশ যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (১) কাজী মাজহারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ ও বিচার দাবি করে ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘সাংবাদিক পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি খুবই দুঃখজনক। আমরা সত্য ঘটনা জানতে চাই। এ দেশে মুক্তিযোদ্ধারা আর কত হয়রানির শিকার হবেন।’
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান (বীরু) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন প্রকৃত আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে ভয় দেখানো খুবই অন্যায় কাজ। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’