জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে আগামীকাল। কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন প্রথম ওয়েব সিরিজের। ঈদের নাটকেও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। এসব নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার...
আমি সৌভাগ্যবান যে করোনাকালেও আমার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘বিশ^সুন্দরী’ টানা চার মাস প্রেক্ষাগৃহে চলেছে। সিয়াম আহমেদ, পরীমণি, চম্পা আপাসহ পুরো টিম নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি করেছে। এজন্যই দর্শকের এত ভালোবাসা পেয়েছি। আসলে প্ল্যাটফর্ম খুব গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্জন চৌধুরী ও অজয় কুমার কুন্ডু যদি ছবিটি প্রযোজনা না করতেন তাহলে হয়তো এত চমৎকার একটি গল্প না বলাই থেকে যেত। অনেকে এখনো ছবিটি দেখতে পারেননি। ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে তারা দেখে নিতে পারেন। আগামীকাল ও পরশু পর পর দুদিন মাছরাঙা টিভিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সিনেমাটি দেখানো হবে।
ওয়েব সিরিজ...
আমার পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ হতে যাচ্ছে ‘অন্তরালে’। এটি প্রযোজনা করছেন কাজী রিটন। এতে মুখ্য চরিত্রে কাজ করবেন পরীমণি ও তারিক আনাম খান। এরইমধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একাধিকবার লকডাউনের মধ্যে পড়ে কাজ পেছাতে বাধ্য হয়েছি। আগামী মাসে পরীমণি তার ‘প্রীতিলতা’ সিনেমার কাজ শুরু করবেন। সব ঠিক থাকলে এরপর আমি ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং করব।
ঈদের কাজ...
ঈদুল আজহায় আমার পরিচালিত ‘অন্ধ জলছবি’ নাটকটি প্রচার হয়েছে। আমি খুবই আপ্লুত, কারণ এমন একটি গল্পনির্ভর কাজ দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এই প্রাপ্তি আমার একার নয়। গল্পটিই দারুণ, আমার সিনেমার মতো এটার শেষেও দর্শক ধাক্কা খেয়েছে। লিখেছেন ইফফাত আরা তন্বী। অভিনয় করেছেন সাদিয়া ইসলাম মৌ, খায়রুল বাসার ও মৌসুমী মৌ।
আক্ষেপ...
ঈদে আসলে আরও কিছু নাটক করার কথা ছিল। কিন্তু পরিচালনা জীবনের ২০ বছরে এবারই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনটি চ্যানেল থেকে আমাকে ছয় জন অভিনেতাকে নিয়ে কাজ করতে বলা হয়। তারা খুব মেধাবী, কিন্তু ভীষণ ব্যস্ত। আমার সঙ্গে কাজ করবে কি না, আমার গল্পের সঙ্গে মানাবে কি না সেগুলোও মাথায় রাখা উচিত। তাছাড়া তারকা দরকার হয় নতুন পরিচালকের ক্ষেত্রে। যাতে তারা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে কাস্টিং নির্ধারণ করে দিলে কাজ করা কঠিন। একটা সময় দর্শক নাটক দেখলেই বুঝতেন এটা আবুল হায়াতের, সালাহউদ্দিন লাভলুর, কৌশিক শংকর দাস, এজাজ মুন্না কিংবা চয়নিকা চৌধুরীর। কিন্তু এখন পরিচালকদের সেই স্বকীয়তা চোখে পড়ে না। বলতে গেলে সবাই একই শিল্পীকে দিয়ে কাজ করে। এতে সব নাটক একই রকম লাগে। এবার ঈদে অনেকের কাজ দেখেছি। বেশকিছু কাজ ভালো হয়েছে, আবার অনেক মানহীন কাজও আছে। এক পরিচালকের কাজ আমার ভালোলাগে। তার একটি নাটক দেখে ফেইসবুকে প্রশংসা করেছি। আবার সেই পরিচালকেরই আরেকটি কাজ দেখে আমি রীতিমতো ভয় পেয়েছি। স্ত্রীকে হত্যা করে তার মাংস রান্না করে লোককে খাওয়ানো হচ্ছে। এমন কিছু কি আমাদের নাটকে দেখানো উচিত, যা সমাজে বাজে প্রভাব ফেলবে? সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম যেদিন সবাই বুঝে কাজ করবে।