ঈদের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা বিশেষ ভিজিএফের চাল ও জিআরের টাকা পায়নি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের দীঘলকান্দি ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার দুস্থ পরিবার। ফলে এসব পরিবারের সদস্যদের ঈদ কেটেছে অতিকষ্টে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ঘাটাইল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ঈদের আগে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিংয়ের (ভিজিএফ) চাল এবং জিআর (জেনারেল রিলিফ) হিসেবে নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ ১৩টি ইউনিয়নে ঈদের আগেই বিতরণ করা হয়। কিন্তু পরিষদ সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে দীঘলকান্দি ইউনিয়নে এ বরাদ্দ বঞ্চিত রয়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার। এখন পর্যন্ত এসব দুস্থের ভাগ্যে জোটেনি ভিজিএফের চাল কিংবা জিআরের টাকা। ফলে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি এসব পরিবারের হাজার হাজার সদস্য।
ঘাটাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ৩০ হাজার ২৫টি পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল। এছাড়া ৯ হাজার ৮০০ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারের বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা। দীঘলকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৩২৯ এবং জিআর সুবিধাভোগী ৭০০ জন। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ঈদ উপলক্ষে সরকারের এ বিশেষ বরাদ্দ যথারীতি বিতরণ করলেও দীঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছর ১৮ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দীঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। পরিষদে আগে থেকে গঠন করা ছিল না চেয়ারম্যানের প্যানেল। নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর পরিষদের নিয়মিত কাজ ফেলে সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার প্রতিযোগিতা। চলতি মাসের ১২ তারিখ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভোটগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি। সেখানে সমান সমান ভোট পান ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী ও ছালামত হোসেন খান। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী হন ছালামত। তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পরিষদ সদস্যদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল ও টাকা বিতরণ বাদ দিয়ে দলাদলি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
দুস্থদের মধ্যে ঈদের আগেই চাল ও টাকা বিতরণে ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া ছালামত হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো আমাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি, তাই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারিনি।’
এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল উপজেলার পিআইও এনামুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীঘলকান্দি ইউনিয়নের নামে যথাসময়ে চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা তা উত্তোলন করেননি এবং বিতরণও করেননি।’ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহুরা বেগম জানান, ইউপি সদস্যরা অসম্মতি প্রকাশ করায় ঈদের আগে টাকা ও চাল উত্তোলন এবং বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইলের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় দাপ্তরিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ঈদের আগে চাল ও টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’