আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫ হাজার ২৭১ জন

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক দিনে আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২০ হাজার ২৫৫ জন। এ সময় সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ হাজার ২৭১ জনের মধ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৩৭ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৬ হাজার ২৩০ জন। রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ২২০ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৬ জন।

গত এক দিনে ঢাকা জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৭১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের ফরিদপুরে ১৪৪ জন, গাজীপুরে ২৬৮ জন, গোপালগঞ্জে ২০৪ জন, কিশোরগঞ্জে ১৩২ জন, মানিকগঞ্জে ২০৩ জন, মুন্সীগঞ্জে ২৯৪ জন, নরসিংদীতে ২৭৯ জন, নারায়ণগঞ্জে ২৫৪ জন, রাজবাড়ীতে ১৪৭ জন, শরীয়তপুরে ১৬৩ জন এবং টাঙ্গাইল জেলায় ১২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের বাইরে জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় ১৩১৫ জন, কক্সবাজারে ৩২৪ জন, ফেনীতে ২১৭ জন, নোয়াখালীতে ২২৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ২০৫ জন, চাঁদপুরে ২৪১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪৪ জন, কুমিল্লায় ৮৪৬ জন, রাজশাহী জেলায় ২১২ জন, যশোরে ২৭৯ জন, খুলনায় ১৮০ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১৪৯ জন, ময়মনসিংহে ৪৫৮ জন, নেত্রকোনায় ১০২ জন, বরিশালে ২৬৫ জন, পটুয়াখালীতে ১৭৮ জন, সিলেটে ৩৮৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৩০ জন, দিনাজপুরে ১৮০ জন এবং রংপুরে ১৭৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩৯ জনের মধ্যে ১২৩ জন পুরুষ ও ১১৬ জন নারী। তাদের মধ্যে দেশের সরকারি হাসপাতালে মারা গেছে ১৮১ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪৩ জন ও বাসায় মারা গেছে ১৫ জন।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৭ জন মারা গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এ সময়ে সবচেয়ে কম ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ জন, সিলেট বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন ও বরিশাল বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

মৃত ২৩৯ জনের মধ্যে ১২৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ৫৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০, ৩ জনের বয়স ১১-২০ এবং ১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের মধ্যে। মৃতদের মধ্যে ১২৩ জন ছিল পুরুষ, ১১৬ জন নারী। ১৮১ জন সরকারি হাসপাতালে, ৪৩ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১৫ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।