ভারত থেকে আসা করোনার অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ৮১ হাজার ৮৮১ ডোজ নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্টের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মানুষের বিতরণ ব্যবস্থাপনার নিয়ম না মেনে টিকা নেওয়াকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মতে, নিয়ম মেনে টিকা না নিয়ে কিছু লোকজন জোরপূর্বক টিকা নিতে গিয়ে ভায়ালপ্রতি এসব ডোজ নষ্ট হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার একটা ভায়াল থেকে ১০ জনকে, মডার্না টিকার একটা ভায়াল থেকে ১০ জনকে, ফাইজারের একটা ভায়াল থেকে ছয়জনকে ও সিনোফার্মের একটি ভায়াল থেকে একজনকে টিকা দেওয়া যায়। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার একটা ভায়াল খুললে তা কমপক্ষে তিন ঘণ্টার মধ্যে ১০ জনকে দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ টিকা না নিলে বাকি ডোজ নষ্ট হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারের কেনা ও ভারত সরকারের উপহার হিসেবে এ পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ ডোজ। দুই ডোজ মিলে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার ১১৯ ডোজ। সে হিসাবে এখনো সরকারের কাছে মজুদ থাকার কথা ৮১ হাজার ৮৮১ ডোজ। কিন্তু বর্তমানে ভারত থেকে আসা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার কোনো ডোজ মজুদ নেই বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে করোনার টিকা বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অবশিষ্ট নেই। যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো টিকা বাকি নেই। আমাদের দেশে টিকা নষ্ট হওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে কম, দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতে নষ্ট হওয়ার পরিমাণ দশমিক ১০ শতাংশ। নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ আছে। বিশেষ করে কেন্দ্রে অনেক মানুষ নিয়ম না মেনে টিকা নিতে গিয়ে এসব ডোজ নষ্ট করে ফেলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নষ্টের কারণ হিসেবে বলেন, অনেক মানুষ অনেক জায়গায় নানাভাবে টিকা নিয়েছে। একজনের জন্য পুরো ভায়াল ভাঙতে হয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। বাধা দিতে গিয়ে টিকা কর্মসূচির লোকজন গালি খেয়েছে, চিকিৎসকদের হেনস্থা করা হয়েছে। এমনকি টিকা না দিলে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কর্মীরা একজনের জন্য পুরো একটি ভায়াল খুলতে বাধ্য হয়েছেন। সেই কেন্দ্রে পরে আর প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোক পাওয়া যায়নি। ফলে টিকার ডোজ নষ্ট হয়েছে।