কবিরাজের চিকিৎসা প্রতিদিন ১০১ ডুব: প্রতিবন্ধী তরুণীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে কবিরাজের নির্দেশে চিকিৎসার নামে সৎ বাবা ও ভাই মিলে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে লিপি আক্তার (২৬) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীকে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সদর থানার আলীরটেক ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই বাবা ও ভাইকে আটক করে পুলিশ। তবে সেই কবিরাজ এখনো অধরা।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সদর থানার ওসি শাহ জামান জানান, আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপাড় গ্রামের প্রতিবন্ধী লিপি আক্তারকে তার পরিবারের সদস্যরা কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। কবিরাজ বলেন, লিপিকে সুস্থ করতে দিনে দুবার পানিতে ১০১টা ডুব দিতে হবে। কবিরাজের কথামতো বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের পুকুরে নিয়ে ডুব দিতে বললে লিপি কয়েকটি ডুব দিয়ে উঠে আসতে চাইলে সৎ বাবা আজহার মিয়া ও ভাই আল আমিন তাকে জোর করে পানিতে চুবাতে থাকে। একপর্যায়ে পানিতেই মারা যায় প্রতিবন্ধী লিপি। বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত লিপির সৎ বাবা আজহার মিয়া ও ভাই আল আমিনকে আটক করে। নির্দেশদাতা কবিরাজকেও আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর লিপির মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।

স্থানীয়রা জানায়, লিপি আক্তার মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে সুস্থ করার জন্য কবিরাজের কাছে নিয়ে যায় তার সৎ বাবা ও আপন ভাই। ওই সময় কবিরাজ লিপি আক্তারকে দিনে দুবার (সকাল ও বিকেল) ১০১ বার পানিতে ডুব দিতে বলেন। এভাবে পানিতে ডুব দিলে লিপি সুস্থ হয়ে উঠবে। তাই কবিরাজের কথায় কয়েক দিন ধরে পানিতে চুবান সৎ বাবা ও ভাই। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপি নিজে যেতে না চাইলে তাকে জোর করে পানিতে নিয়ে চুবাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লিপি পানিতে মারা যান।

তারা বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে বাবা ও ছেলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লিপির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে আটক করা হয়।