নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. নূর মোহাম্মদ শামছুল আলম। সরকারি নিয়মনীতির যেন কোনো তোয়াক্কা করেন না তিনি। সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ডিউটি ফেলে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। করোনা মহামারীর এই দুর্যোগকালে পুরো উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল এই হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসকরা প্রতি সপ্তাহের শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ডিউটি করবেন। আর রোগী না থাকলেও চিকিৎসকরা হাসপাতালে অবস্থান করবেন। কিন্তু মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও শামছুল আলম সরকারি ডিউটি ফেলে নিয়মিত রোগী ডা. টিএইচও শামছুলদেখছেন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামছুল আলম রোগী দেখার সুবিধার্থে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের সামনে নিজের ছবি ও পরিচিতি বর্ণনা করে একটি ব্যানার লাগিয়েছেন। ওই ব্যানারে রোগী দেখার সময় প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন আড়াইটা পর্যন্ত তার হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার মুক্তি ল্যাবে নিয়মিত প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন শামছুল আলম। ওই ল্যাবের ফটকের সামনে লাগানো বড় ব্যানারে আরও কয়েকজন চিকিৎসকের পাশাপাশি তার ছবিসহ পরিচিতি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুক্তি ল্যাবের পাশর্^বর্তী একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোস্তাকিম মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুক্তি ল্যাবেই নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন টিইএচও শামছুল আলম। সেখানে আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য বিষয় দেখেন তিনি। তার ছবিসহ পরিচিতির ওই ব্যানারটি সাত-আট মাস আগে লাগানো হয়েছে।’
সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক শামছুলের রোগী দেখার তথ্যে হতাশা প্রকাশ করে মোহনগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন রতন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের প্রধান যদি ডিউটি সময়ে বাইরে রোগী দেখেন তাহলে অন্যরা অনিয়ম করবে, এটাই স্বাভাবিক। ছবিসহ ব্যানারে বিজ্ঞাপন দিয়ে রোগী দেখার বিষয়টি তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।’
এ জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, ‘অন্য চিকিৎসকদের ডিউটি সময় নির্ধারিত থাকলেও হাসপাতালপ্রধানের কাজ সার্বক্ষণিক সবকিছু দেখাশোনা করা। অভিভাবক ডিউটি ফেলে রোগী দেখলে অন্যদের দেখাশোনা করবে কে?’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিএইচও নূর মোহাম্মদ শামছুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই ল্যাবে আমি রোগী দেখি বেলা ৩টা থেকে। ল্যাব কর্র্তৃপক্ষ সময়ের বিষয়টি ব্যানারে ভুলে লিখেছে।’
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিউটি রেখে বাইরে রোগী দেখা অনিয়ম। টিএইচও হলেন সেখানকার প্রধান। প্রধান হয়ে তিনি এমনটি করতে পারেন না। তাহলে অন্যরাও তার দেখাদেখি অনিয়ম করবে। প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা দোষের কিছু নয়। তবে সেটা অবশ্যই ডিউটি সময়ের পরে হতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে টিএইচওর সঙ্গে কথা বলব।’