করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পাড়া-মহল্লায় কমিটি করার পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘করোনার মতো ভয়াবহ মরণছোবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে গ্রামে, পাড়ায়, মহল্লায় করোনা প্রতিরোধক সচেতনতা কমিটি গঠন করতে হবে। কেননা চিকিৎসার পাশাপাশি এখন সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষকে মাস্ক পরতে অভ্যস্ত করা এবং অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিরুৎসাহিতকরণ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’
গতকাল শুক্রবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঢাকার মেহেরপুর জেলা সমিতির নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল জুম মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে সমাজের বিত্তবানরা আজ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। এখন সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রতিটি মানুষকে করোনা পরীক্ষা ও টিকার আওতায় আনার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। তখন ঢাকার মেহেরপুর জেলা সমিতির সহসভাপতি প্রকৌশলী দাতো একরামুল হক বলেন, সরকারি অনুমতি পেলে সব নিয়মবিধি মেনে ঢাকার মেহেরপুর জেলা সমিতি মেহেরপুরের প্রত্যেক মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিতে কানাডা থেকে ১০ লাখ ডোজ টিকা আনতে প্রস্তুত। মন্ত্রী এই শুভ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সাহায্যের আশ্বাস দেন।
এ সময় শ^াসকষ্ট নিয়ে ছটফট করা করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য মেহেরপুর জেলা সমিতির পক্ষ থেকে ১০টি অত্যাধুনিক ও মূল্যবান অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মনসুর আলম খানের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই সময় মেহেরপুর জে-আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জহুরুল ইসলাম আরও ৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন মেহেরপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জন্য জেলা প্রশাসকের হাতে হস্তান্তর করেন। এই ভার্চুয়াল জুম মিটিংয়ে মেহেরপুর সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন, মেহেরপুর পুলিশ সুপার রাফিউল আলম, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মেহেরপুর জেলা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী এ এল এম জিয়াউল হক, সহসভাপতি প্রকৌশলী দাতো একরামুল হক, প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব হোসেন, পিপি পল্লব ভট্টাচার্য্য তরুণ, অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন, ইমানুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ঢাকার মেহেরপুর জেলা সমিতি রপ্তানিযোগ্য ৫০ হাজার মাস্ক ও ৫০০ পিপিই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জন্য বিতরণ করেন।
সভায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মনসুর আলম খান বলেন, মেহেরপুরে ইতিমধ্যে সময়োপযোগী ৪৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন পাওয়া গেছে; যা পাশর্^বর্তী কোনো জেলায় নেই। এর মধ্যে ১০টি ছাড়া বাকি সবই বেসরকারিভাবে পাওয়া উল্লেখ করে ডিসি বলেন, মেহেরপুরে করোনা প্রতিরোধে সুরক্ষাসামগ্রীসহ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরকারের চেয়ে বেসরকারিভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এ কারণে পাশর্^বর্তী যেকোনো জেলার চেয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা এখন বেশি। কারণ এখানে আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি সক্ষম উচ্চগতির অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন তুলনামূলকভাবে বেশি আছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মন্ত্রীর নির্দেশে মেহেরপুরে পাড়া, মহল্লায় করোনা প্রতিরোধক সচেতনতা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণে এ জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে তুলনামূলক কম।