স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর স্বামীর বিষপান!

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর স্বামী বিষপানে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে পৌর শহরের শাহ মখদুম সাজিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহত গৃহবধূ আয়েশা সিদ্দিকা মালেকার (৪২) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বামী আলী আকবরকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। 

আক্কেলপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশীরা শুক্রবার সকালে আকবরের বাড়ির জানালার পাশে রক্ত মাখা ছুরি দেখতে পান। পরে তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখেন, এক ঘরে মালেকার গলাকাটা লাশ পড়ে আছে আর অন্য ঘরে স্বামী আকবর বিষপান করে ছটপট করছেন। তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ও আকবরকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। তবে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

প্রতিবেশীরা জানান, আলী আকবর কখনো স্থানীয় বাজারে বাজারে শাকসবজি, কখনো ট্রেনে হকারি করতেন। তাদের ২৫ বছরে সংসারে তিনটি ছেলেমেয়ে আছে। এর মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আর ছেলে ও এক মেয়ে দুই দিন আগে রাজশাহীতে খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িতে শুধু আলী আকবর ও আয়েশা মালেকা ছিলেন।

আলী আকবরের বড় ভাই আব্দুর রহমান বলেন, আমরা আলাদা বাড়িতে বসবাস করি। আমরা সবাই জানি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি আকবরের বাড়িতে ছেলেমেয়ে কেউ নেই, সে তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছে এবং নিজে বিষপান করেছে।

আক্কেলপুর পৌরসভার ওই এলাকার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুর রহমান পল্টু দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘আলী আকবর গত বছর তার কিছু জমি স্ত্রীকে লিখে দিয়েছিলেন। পরে আবার অর্ধেক জমি ফেরত নেন। এর জেরে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিলেন। তখন বাড়ি থেকে দুই মাস পালিয়েও ছিলেন। পরে জামাতার মধ্যস্থতায় আবার কিছু জমি স্ত্রী ও সন্তাদের লিখে দিয়ে মীমাংসা করেছিল।’

আক্কেলপুর থানার ওসি সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আয়েশার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর পুলিশ প্রহরায় আকবরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।