দক্ষ কর্মী নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সংলাপ

শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনই মূল চ্যালেঞ্জ

বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দেশি বাজার উন্নয়ন ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষ কর্মী সরবরাহে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এখন মূল চ্যালেঞ্জ। দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নে গতকাল এক ভার্চুয়াল পলিসি সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। সংলাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

শীর্ষ ব্যবসা সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন।

জসিম উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী সরবরাহের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী করে দেশের কর্মক্ষম জনবলকে অবশ্যই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষকর্মীর পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরি করা জরুরি। এজন্য চাহিদাভিত্তিক বিশেষায়িত শিক্ষা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনার পক্ষে তিনি মত দেন। 

তিনি বলেন, দেশের শিল্পের সঙ্গে অ্যাকাডেমিয়ার যোগাযোগ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর শিল্প, বাণিজ্য ও অফিস ব্যবস্থাপনা পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া বিশেষভাবে জরুরি। তিনি এলডিসি উত্তরণসহ সরকারের অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া আরও বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরিতে আমাদের নিডবেজ স্পেশালাইজেশন দরকার। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ খাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-কে আরও গতিশীল করতে যথাযথ প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিদেশ থেকে মানসম্মত ট্রেইনার আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

 মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ লোকের চাহিদা আছে। ট্রেনিং অ্যাকাডেমিসহ সব খাতে যেসব গ্যাপ রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে কারিগরি শিক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষকর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে।

এসময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের অভাব, কারিগরি শিক্ষা মূল্যায়নে সীমাবদ্ধতা, মাস্টারট্রেনারের অভাবসহ বেশকিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এফবিসিসিআইসহ সব সেক্টরকে সমন্বিত হয়ে খাতভিক্তিক গ্যাপ উত্তরণে কাজ করতে হবে। এতে দেশে-বিদেশে সর্বক্ষেত্রে ভ্যালু অ্যাডিশন হবে, প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী ও পরিচালক আবু নাসের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।