নড়াইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে যত্রতত্র ‘অপ্রয়োজনীয়’ গতিরোধক স্থাপন করায় পথচারীদের দুর্ভোগ যেন আরও বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নিয়মনীতি না মেনেই প্রভাবশালীদের চাপে বিভিন্ন বাসাবাড়ির সামনে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসব গতিরোধক স্থাপন করা হলেও কোনো চিহ্ন না থাকায় পথচারীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়, যানবাহনগুলো মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনায় পড়ছে।
জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অন্তত ৩০টির বেশি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এর অধিকাংশ গতিরোধ স্থাপন করা হয়েছে প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে এবং অপ্রয়োজনীয় স্থানে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মহিষখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ছয়টি গতিরোধক। এর মধ্যে অধিকাংশ গতিরোধক অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নড়াইল পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে ফাঁকা জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি গতিরোধ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নড়াইল আদালত সড়কেও রয়েছে অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক।
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বরাশুলা এতিমখানা রোডে মাত্র ১৫০ মিটার সড়কের ভেতর স্থাপন করা হয়েছে চারটি গতিরোধক। যার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হলেও বাকি দুটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের আলাদাতপুর এলাকার পাসপোর্ট অফিস সড়কে ১০০ মিটারেরও কম জায়গায় পরপর তিনটি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। সব প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার পানি মসজিদ থেকে পাসপোর্ট অফিস সড়কেও তিনটি গতিরোধক রয়েছে। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ডুমুরতলায় নবনির্মিত মাহাতাব উদ্দিন বেগ সড়কে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি গতিরোধক। যার একটি মসজিদের সামনে হলেও বাকি দুটি প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে।
এসব গতিরোধকের অধিকাংশই যেখানে স্থাপন করা হয়েছে সেখানে নেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা স্থাপনা। রাস্তা নির্মাণের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা গায়ের জোরে ঠিকাদারদের চাপ দিয়ে নিজেদের বাড়ি বা দোকানপাটের সামনে স্থাপন করেছেন এসব অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক। তাছাড়া এসব গতিরোধকের গায়ে নেই কোনো চিহ্ন। ফলে রাতের বেলায় পথচারীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। যত্রতত্র এসব গতিরোধক স্থাপনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ছোটখাটো দুর্ঘটনায়ও।
পৌরসভা মহিষখোলা এলাকার বাসিন্দা মোটরসাইকেলচালক মাফুদুল হক লিখন বলেন, ‘এসব গতিরোধক স্থাপন করা হলেও সেখানে রং দিয়ে কোনো চিহ্ন দেওয়া হয়নি। যার কারণে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে।’
গণমাধ্যমকর্মী আনিচুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা ইচ্ছামতো তাদের বাড়ির সামনে গতিরোধক স্থাপন করেছে।’
নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘নতুন নির্মাণ করা সড়কগুলোর অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এটা স্থানীয় কিছু লোক করেছে। যেহেতু এটা করা হয়ে গেছে তাই এখন তো আর ভেঙে দিতে পারছি না। সে ক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুম শেষ হলে গতিরোধকগুলোর ওপর আমরা রং করে দেব।’