সিপিডির সংবাদ সম্মেলন

করোনার সুযোগে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি বাড়তে পারে

ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে এ দেশে। তাই প্র্রণোদনার ঋণের টাকা ফেরত আসা নিয়ে সংশয় আছে ব্যাংকগুলো। করোনার মতো সংকটের সুযোগে অনেকে ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হয়ে যেতে পারেন। বিষয়টি মোকাবিলা নিয়ে সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

‘সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি কি অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারবে? সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্য গবেষকরা।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনার টাকা বড় উদ্যোক্তারা ব্যবহার করতে পারছেন। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তারা প্রণোদনার অর্থ তেমন পাচ্ছেন না। ফলে ছোটরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না, পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। এতে মহামারীর সময় বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বাজারে এখন অধিক তারল্য আছে। উৎপাদনশীল খাতে অর্থ না গিয়ে পুঁজিবাজারে যাচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। তারা গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, প্রণোদনার অর্থ পুঁজিবাজারে যাচ্ছে। তা না হলে করোনার কারণে অর্থনীতির এই অবস্থায় পুঁজিবাজার চাঙ্গা হওয়ার কারণ নেই।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ইদানীং সন্দেহজনক স্টকে বিনিয়োগ বাড়ছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোথাও ‘ফাউল প্লে’ হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি শেয়ারের দাম বাড়িয়ে টাকা বানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এসইসি) কাজ করতে পারে।’

প্রবাসী আয় অধিক তারল্য সৃষ্টি করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন পরিবারের আয় কমেছে। তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। ২ শতাংশ প্রণোদনাও কাজ করছে। রেমিট্যান্সের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

সিপিডি আরও বলেছে, চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই মুদ্রানীতি খুব সহায়ক হবে না। ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ করতে হবে। এই করোনার সময়ে ব্যক্তিখাতে এত ঋণ দেওয়া কঠিন। এতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে হবে না। আর এই সময় সাময়িক সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যেন পুরনো সংস্কারের কথা আমরা ভুলে না যাই। সিপিডি আরও বলছে, অধিক তারল্য ব্যবহারে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।

সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েক মাস অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।