হেলমান্দে আফগান বাহিনীর সঙ্গে লড়াই ৭৭ তালেবান নিহত

তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দের প্রধান শহর লস্করগায়ের পতন ঠেকাতে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে সরকারি বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে শহরের কয়েক হাজার বাসিন্দা প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রাদেশিক রাজধানী লস্করগায়ের দখলে আক্রমণ করছে তালেবান। ইতিমধ্যে প্রদেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেল দখলে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। তালেবানের সঙ্গে লড়তে হেলমান্দ প্রদেশে কয়েকশ’ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মূলত হেলমান্দ প্রদেশের অবস্থান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সেনা অভিযান পরিচালনা করত। প্রদেশটি তালেবানের দখলে গেলে আফগান সরকার বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। লস্করগায়ের পতন হলে ২০১৬ সালের পর এটি হবে তালেবানের প্রথম কোনো প্রাদেশিক রাজধানী বিজয়। বর্তমানে তালেবান যে তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে তার একটি হচ্ছে এই শহর।

এদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মুখপাত্র ফাওয়া আমান গতকাল মঙ্গলবার দাবি করেছেন, হেলমান্দের রাজধানী লস্করগায়ের আশপাশের এলাকায় তালেবানদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিমান ও স্থলপথে হামলা চালায়। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় তালেবানের ৭৭ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন তালেবানের সামরিক কমিশনের প্রধান রয়েছেন। তাদের বিপজ্জনক অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হেলমান্দ প্রদেশে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। আগে হেলমান্দে বিমান হামলা চালিয়ে ৪০ তালেবান হত্যার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী।

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা দখল নিতে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। ইতিমধ্যে তারা ২২৩টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আর ১১৬টি জেলায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম লং ওয়ার জার্নালের তথ্যে, দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৭টির রাজধানী বর্তমানে তালেবানের দখলে চলে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।