চট্টগ্রামের বাঁশখালীর খানখানাবাদ ও আনোয়ারার গহিরা এলাকার জেলেদের বিরোধকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে ফিশিং বোট ডুবিয়ে এক জেলেকে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২০ জেলে আহত হয়েছেন। হত্যার শিকার জেলে মো. নাছিরের (৩০) লাশ হামলাকারীরা নিয়ে গেলেও পরে ফেরত দেয়।
ঘটনার সময় আহত হওয়া ২০ জেলে গত মঙ্গলবার রাতে খানখানাবাদের কদমরসুল ঘাট এলাকায় এলে তাদের বাঁশখালী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওই রাতে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) হুমায়ুন কবির ও বাঁশখালী থানার ওসি সফিউল কবীর খানখানাবাদের কদমরসুল ঘাট এলাকায় অবস্থান করে ঘটনার বিস্তারিত অবহিত হওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার মো. এনাম ও আবুল বশরের মালিকানাধীন বড় মাওলানা ফিশিং বোটটি ২২ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলতে যায়। গভীর সমুদ্রে জাল ফেলার সময় আনোয়ারার গহিরা এলাকার জেলেরা দুটি ফিশিং বোট নিয়ে এসে বাঁশখালীর জেলেদের ফিশিং বোটের ওপর তুলে দিয়ে হামলা ও মারধর করে। এ সময় বোটটি সাগরে ডুবে গেলে খানখানাবাদের ডোয়ালিয়াপাড়ার শামশুল আলমের ছেলে নাছির ঘটনাস্থলে মারা যান। অন্যরা আহত অবস্থায় সাগরে ঝাঁপ দিয়ে অন্য বোটের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কূলে ফিরে আসেন।
বোটে থাকা মাঝি ভুবন জলদাশ ও সাদুর রশীদ বলেন, আমরা ২২ জন বোট নিয়ে সাগরে জাল ফেলতে যাই। এ সময় আনোয়ারা গহিরা এলাকার দুটি বোট এসে আমাদের মারধর করলে আমাদের বোটটি সমুদ্রে ডুবে যায়। আমরা প্রায় এক ঘণ্টা সাগরে ‘পুলা’ ও কাঠ নিয়ে ভাসমান ছিলাম। অন্য একটি বোট এসে আমাদের উদ্ধার করে সাগরপাড়ে নিয়ে এলেও নাছিরের লাশ নিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা আমাদের মারধর করে লাশ নিয়ে যায়।
বাঁশখালী থানার ওসি সফিউল কবীর বলেন, সাগরে জেলেদের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় নাছির নামে এক জেলে মারা যায়।