বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত উদ্যাপিত হয় মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২১-এর প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মাতৃদুগ্ধ দান প্রচেষ্টায়, সবার সম্মিলিত দায়’। এটি প্রতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পালন করা হয় মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রতি উৎসাহ জোগাতে। যাতে নবজাতক শিশুমৃত্যুর হার কমানো যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে বলতে গেলে মাতৃদুগ্ধ পান একটি অন্যতম পন্থা এবং শিশুমৃত্যুর হার কমানো ও বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে মায়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে। মায়েরা বাচ্চার ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হবেন। এতে শিশু তার পরিপূর্ণ পুষ্টি পাবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। মাতৃদুগ্ধ পান করলে মা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং স্তন ক্যানসারের প্রবণতা কমে যাবে। এজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা কমাতে এবং মা ও শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে একযোগে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হয়।

শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধের মধ্যে শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানই বিদ্যমান। শিশুজন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ালে মৃত্যুর হার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। আর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ালে (এক ফোঁটা পানিও না) শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও ১৩% কমে যায়। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ গ্রহণ অপরিহার্য। এটি শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর দেহের বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশের সব উপাদান মায়ের দুধে বিদ্যমান।

কৌটাজাত দুধ খেলে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি, ডায়রিয়া ১০ গুণ ও নিউমোনিয়া প্রায় ১৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, বুদ্ধি বিকাশে বাধা, শৈশবকালীন ক্যানসার ও পরবর্তী হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সঠিক অবস্থানে রাখার জন্য চারটি মূল তথ্য

 শিশুর মাথা ও শরীর একই রেখায় আছে।

 শিশুর শরীর মায়ের গায়ে নিবিড়ভাবে লেগে আছে।

 শিশুর পুরো শরীর নিরাপদভাবে ধরা আছে।

 শিশু যখন স্তনের দিকে আগাচ্ছে তখন তার নাক বোঁটা বরাবর থাকে।

মায়ের বুকে শিশু লেগে থাকা ৪টি মূল তথ্য হলো শিশুর মুখ বড় করে হাঁ করতে হবে। শিশুর থুতনি মায়ের স্তনে লেগে থাকবে। নিচের ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো থাকবে। স্তনের চারপাশের অধিকাংশ কালো অংশ শিশুর মুখের ভেতর থাকবে। ছয় মাস পর মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দেওয়া শুরু করতে হবে। পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ দানের ওপর জীবনব্যাপী প্রভাবের সঙ্গে সব ধরনের অপুষ্টি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। মাতৃদুগ্ধ দানকারী মায়েদের সহায়তার জন্য সব জায়গায় সাহায্যকারী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।