করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৩০টি অক্সিজেন জেনারেটর কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এই প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়।
গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি ২০তম অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভা ও ২৬তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অনলাইন ব্রিফিং করেন অর্থমন্ত্রী।
ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় একটি প্রকল্প এসেছিল। প্রকল্পটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে। এটি হচ্ছে অক্সিজেন ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়, এটি অনুমোদন দিয়েছি। আমাদের অক্সিজেন প্ল্যান্ট কিনতে হবে, সেটি আমরা অনুমোদন দিয়েছি। এটারপ্রাইজ ও অন্যান্য যে বিষয় আছে, সেগুলো আমরা পরবর্তী সভায় পাব এবং তা বিবেচনা করব।’
অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অক্সিজেন প্ল্যান্টের জন্য পরবর্তী মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ হলো এটার ফিন্যান্সিয়াল আসপেক্টটা আজকে বিবেচিত হয়নি। এটা আমরা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি। সুতরাং ফিন্যান্সিয়াল ইনভলভমেন্টটা পরে অনুমোদনের জন্য আসবে।’
পরে প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আরেফিন জানান, প্রস্তাবটি ছিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে কভিড-১৯ রেসপন্সের ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোজেক্টের আওতায় ৩০টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
১০ ক্রয় প্রস্তাব পাস : গতকালের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ফেরত দেওয়া হয়। অর্থাৎ ১০টি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবের মধ্যে ৯টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৮০ লাখ ২ হাজার ১৭৬ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ৯১০ কোটি ৯৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৯ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ ৪৩১ কোটি ৮২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৭ টাকা।