চীনে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়তে থাকায় বিধিনিষেধ জোরদার হওয়ার মধ্যেই চলতি বছর জানুয়ারির পর ছয় মাসের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ কভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
গত ৩ আগস্ট স্থানীয়ভাবে ৭১ জনের দেহে কভিড শনাক্ত হয়েছে। ৩০ জানুয়ারির পর এটিই দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। এরপর তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীন এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিল।
কিন্তু সম্প্রতি আবারও সেখানে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ডেল্টা ধরন শনাক্ত হয় রাজধানী পেইচিংসহ এক ডজনেরও বেশি নগরীতে।
২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চীনে স্থানীয়ভাবে ৪৮৫ জন কভিড সংক্রমিত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে ডেল্টায় কতজন আক্রান্ত হয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি। গত সোমবারই চীনের ১৫টি প্রদেশে ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে। গতকাল বুধবার নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ প্রদেশ, অঞ্চল ও পৌরসভা এলাকায়। এ পরিস্থিতিতে সরকার নতুন করে ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাতিল করা হচ্ছে ফ্লাইট। পরীক্ষা করা হচ্ছে লাখ লাখ মানুষকে।
জুলাই মাসে জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং শহর থেকেই ডেল্টা ধরন ছড়িয়েছে বলে মনে করছে কর্র্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, নানজিংয়ের লুকোউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন কর্মী একটি উড়োজাহাজ পরিষ্কারের সময় যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার মাধ্যমেই সেখানে ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়ে।
নানজিংয়ের ৯২ লাখ বাসিন্দার কভিড পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরটিতে লকডাউনও জারি করা হয়েছে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মানুষ। তবে সপ্তাহ শেষে কর্র্তৃপক্ষের নজর পড়েছে হুনান প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ঝাংজিয়াজিতে। সেখানে বহু মানুষের কভিড শনাক্ত হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পর উহানেও চলতি সপ্তাহে ভাইরাস সংক্রমণ নতুন করে ধরা পড়েছে। উহান কর্র্তৃপক্ষ শহরের সব বাসিন্দার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।