ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নিয়ে কঠোর হচ্ছে সরকার

১০ লাখের মধ্যেই মেরামত

দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) রয়েছে। এর মধ্যে সরকার ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে ৩ হাজার ২০০টি। কমবেশি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা এসব কমপ্লেক্স মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ লাখ টাকা খরচ করতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। এ অর্থ খরচে নামকাওয়াস্তে কাজ করার বিস্তর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স মেরামতের অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়ন-ব্যয়ন ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অর্থ খরচের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খরচের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তার অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ নীতিমালার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী ও ইউপি চেয়ারম্যান এ সংক্রান্ত কাজটি বাস্তবায়ন করতেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ ব্যয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি একটি নীতিমালা জারি করেছে। এতে এ খাতে অর্থ ব্যয়ে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে। এ আদেশ জারির ফলে ইউপি কমপ্লেক্স মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ অপচয়ের রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা আদেশে বলা হয়, একটি ইউপি কমপ্লেক্স মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এ খাতে ব্যয়সংক্রান্ত মূলত দুটি কমিটি কাজ করবে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) মেনে ইউএনওর অনুমতি সাপেক্ষে দরপত্র আহ্বান করা যাবে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক হচ্ছেন এসিল্যান্ড ও সদস্য সচিব হচ্ছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী। আর দরপত্র উন্মুক্ত করার জন্য একটি আলাদা কমিটি কাজ করবে। যেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী করলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইউএনওর কাছে উপস্থাপন করতে হবে। আর প্রকল্পের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী যৌথভাবে কাজ করবেন।

নতুন এ নীতিমালার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এ অর্থ ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ বা নকশার পরিবর্তন করে কোনো কাজে খরচ করা যাবে না। অর্থ খরচের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা ও প্রমাণস্বরূপ রঙিন ছবি দিতে হবে। প্রতিটি ভবনের কাজের অঙ্গভিত্তিক কাজের বিবরণ দিয়ে অর্থ খরচ করতে হবে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, মেরামত ও সংরক্ষণ খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল। এখন এটির পরিমাণ বাড়বে। এ বরাদ্দ ব্যয়ে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগও আসত। কিন্তু সঠিক নীতিমালার অভাবে এ অনিয়মে লাগাম টানতে পারছিল না সরকার। এ লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করে আসছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অবশেষে একটি নীতিমালা জারি হলো। এবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নথিপত্রে যুক্ত করে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অনিয়ম হলে স্থানীয় প্রশাসনও যেন দায়িত্ব না এড়াতে পারে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা করা হয়েছে। এতে করে আগে শুধু উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ইউপি চেয়ারম্যান মিলে নামকাওয়াস্তে কাজ করে যে বিল উঠিয়ে নিত তা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।