স্যামসাংকে টপকে ইউরোপের শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি

ইউরোপে প্রথমবারের মতো স্যামসাংকে টপকে শাওমি শীর্ষস্থান দখল করেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটেজি অ্যানালিটিক্স জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে শাওমি।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছিল, এবার স্যামসাংকে ছাড়িয়ে গেল। স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিটিক্সের তথ্যমতে, শীর্ষ পাঁচের অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে অপ্পো ও রিয়েলমি।

শীর্ষ অবস্থানের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শাওমি সরবরাহ করেছে ১ কোটি ২৭ লাখ স্মার্টফোন। একই সময়ে কোরিয়ান টেক জায়ান্ট স্যামসাং বাজারটিতে ১ কোটি ২০ লাখ ফোন সরবরাহ করেছে। স্যামসাংয়ের ফোন সরবরাহ গত বছরের চেয়ে কমেছে ৭ শতাংশ। যদিও ব্র্যান্ডটি এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষস্থানেই রয়েছে।

আরেক জায়ান্ট অ্যাপল এই সময়ে তাদের আইফোন ১২ দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তারা গত বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে পেরেছে।

সব মিলিয়ে ইউরোপে ২০২১ সালে স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে স্মার্টফোন সরবরাহ হয়েছে ৫ কোটি ১০ হাজার। ইউরোপ এখন করোনা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। কোভিড-পরবর্তী সময় হিসেবে পুরো ইউরোপেই স্মার্টফোনের চাহিদাও বেড়েছে বেশ পরিমাণেই।

শাওমি তাদের ডিভাইসের দামের ওপর নজর দেওয়ায় পুরো ইউরোপে ব্র্যান্ডটির বাজার বড় হয়েছে।

স্ট্যাটেজি অ্যানালিটিক্সের মতে, শাওমি স্মার্টফোনের সমৃদ্ধ ফিচার এবং দাম, বিশেষ করে মি ও রেডমি সিরিজের স্মার্টফোন দিয়ে এই সফলতা আনতে পেরেছে ইউরোপের বাজারে। রাশিয়া, স্পেন, ইতালি এবং ইউক্রেনে এই সিরিজগুলো দিয়ে অসাধারণ প্রবৃদ্ধি দেখেছে শাওমি।

শাওমির উত্থানের আরেকটি কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে হুয়াওয়ের পিছিয়ে যাওয়া। বাজারটিতে এক সময় ভালো অবস্থানে থাকা হুয়াওয়ে ২০১৯ সালে তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগলের সেবা বন্ধ হয়ে গেলে বাজার থেকে ছিটকে পড়ে। শুধুমাত্র দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শাওমি স্যামসাংকে অতিক্রম করলো।

এখনো এ বছরের ৬ মাস বাকি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষেও ইউরোপে স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যাওয়া শাওমির পক্ষে অসম্ভব কিছু না।