দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

লাঠিটিলায় সাফারি পার্কের পরিকল্পনা বাতিল দাবি বাপার

মৌলভীবাজারের জুড়িতে সংরক্ষিত লাঠিটিলা বনে সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। গতকাল বৃহস্পতিবার বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে গত ২ জুলাই বন বিভাগের উদ্যোগে লাঠিটিলা বনে সাফারি পার্ক নির্মাণ পরিকল্পনার নথি এবং পরিবেশবাদীসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় ‘ইকো-ট্যুরিজমের নামে বন ধ্বংসের ছক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক করার সিদ্ধান্তকে ভুল উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে বাপা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষিত লাঠিটিলা বনে সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বন বিভাগ। সংরক্ষিত বনের ভেতরে সাফারি পার্ক করলে বন ধ্বংস হয়ে যাবে।

বাপার গতকালের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মৌলভীবাজারের ক্রান্তীয় চিরসবুজ বন ও দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনভূমি লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বন বিভাগ। গত ২ জুলাই দৈনিক দেশ রূপান্তরে এবং ২৮ জুলাই আরেকটি গণমাধ্যমে বনের ভেতর সাফারি পার্ক নির্মাণের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিপর্যয়সমূহ এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতায় প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। আমরা মনে করি মৌলভীবাজারের লাঠিটিলার জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনভূমিতে বন বিভাগের সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করে সাফারি পার্ক নির্মাণ না করে বনটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে পর্যটন সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। যেকোনো বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যথাযথ সমীক্ষার মাধ্যমে নিরূপণ করার যে বাধ্যবাধকতা আছে তা মেনে চলতে হবে।’

বাপার বিবৃতিতে লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক নির্মাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের যে হুমকি দিয়েছেন তারও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, ‘দেশ ও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের  অবাধ প্রবাহের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিকার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাঠিটিলা বাদে অন্য কোথাও যদি সাফারি পার্ক নির্মাণ করতে হয় সে ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে  স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।’