লক্ষ্মীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত হারুনুর রশিদ সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় পোদ্দার বাজারের মাংস ব্যবসায়ী। গত বুধবার রাতে একই ইউনিয়নের বটের পুকুরপাড় এলাকায় তার ওপর হামলা হয়।
অন্যদিকে একইদিন রাতে গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. মঞ্জুরুল হাসান লিখন (৩৮) নামে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিস্তারিত দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে : লক্ষ্মীপুরে কুপিয়ে হত্যার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশিদ বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেধর্মপুর গ্রামের প্রয়াত হোসেন আহমদের ছেলে। তাকে হত্যার ঘটনায় বড় ছেলে আলামিন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে গতকাল রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের স্বজন ও চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশিদ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বাড়ির পাশে বটের পুকুরপাড়ে বাবুলের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আসা চার-পাঁচ দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হারুনুরের দুই হাত ও পায়ের কব্জি বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি তার মাথায় আঘাত করে। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার পাশাপাশি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আশপাশের লোকজন হারুনুরকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং সেখান থেকে পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পথে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকায় রাত ১টার দিকে মারা যান হারুনুর।
আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার খবর পেয়ে জেলার পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান রাতেই লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আসেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
হাসপাতালে পুলিশ সুপার বলেন, ‘হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে গতকাল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিহত হারুনুর রশিদের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হারুনুর হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদী তার ছেলে আলামিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার নিরপরাধ বাবাকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি সমর্থক স্থানীয় ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘নিহত হারুনুর রশিদ স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির সন্ত্রাসীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা শান্ত লক্ষ্মীপুরকে আবারও অশান্ত করছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি এ কে ফজলুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা হারুন হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা তৎপর রয়েছি।’
গাইবান্ধায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নিহত : গাইবান্ধায় নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মঞ্জুরুল হাসান লিখন গাইবান্ধা পৌরসভার পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মাহাবুবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঞ্জুরুল গত বুধবার দুপুরে জেলা শহরের হকার্স মার্কেটের পাশে শরিফ মিয়ার দোকানে আম কিনতে যান। সেখানে আম কেনার সময় দাম নিয়ে শরিফের সঙ্গে মঞ্জুরুলের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন বিষয়টির সমঝোতা করে দেন। এরপর রাত ৮টার দিকে মঞ্জুরুল ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শহরের সার্কুলার রোডে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যান। এ সময় আম বিক্রেতা শরিফসহ তার চার-পাঁচ সহযোগী ধারালো অস্ত্র নিয়ে মঞ্জুরুলের ওপর হামলা চালায়। তারা মঞ্জুরুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মঞ্জুরুল।
গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মঞ্জুরুল হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় বলা যাচ্ছে না।’