সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব

পরীমণির বাসায় প্রতি রাতে বসত ডিজে পার্টি মাদক মামলা, ৪ দিনের রিমান্ড

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি ২০১৬ সাল থেকেই অ্যালকোহলে আসক্ত। তাছাড়া প্রতি রাতে তার বাসায় বসত ডিজে পার্টি। ওই পার্টিতে নিয়মিত মাদক সেবন করা হতো। তাকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পরীমণির মদপানের লাইসেন্স থাকলেও সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এদিকে গতকাল বিকেলে র‌্যাবের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরীমণিসহ গ্রেপ্তার চারজনকে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করে। একটি মামলায় পরীমণির মামা আশরাফুল ইসলাম দীপু ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের সহযোগী সবুজ আলীকে আসামি করা হয়। এরপর রাত ৮টায় অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পরীমণিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরীমণিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ৮টা ২৭ মিনিটে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পৌঁছায়। পরে শুনানি শেষে পরীমণিসহ চারজনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের বিষয়ে তথ্য দেয়। ফলশ্রুতিতে র‌্যাব ওইসব স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। সেই তথ্যের আলোকে গত বুধবার বনানী এলাকায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি, নজরুল ইসলাম ওরফে রাজ, আশরাফুল ইসলাম দীপু ও মো. সবুজ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরীমণিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তিনি ২০১৪ সালে চিত্রজগতে পা রাখেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩০টি সিনেমা এবং ৫/৭টি টিভিসিতে (টেলিভিশন বিজ্ঞাপন) অভিনয় করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন পরীমণি। তার ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে পরীমণি তার বাসায় একটি মিনিবার স্থাপন করেছেন। মিনিবার থাকায় তার ফ্ল্যাটে ঘরোয়া পার্টির আয়োজন পরিপূর্ণতা পেত। গ্রেপ্তার রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করতেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজ জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরে ঢাকায় গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন বলেও দাবি করেন। অতঃপর তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সিনেমা ও নাটকে নানান চরিত্রে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নামে-বেনামে প্রযোজনায় যুক্ত হন। রাজ মাল্টিমিডিয়া নামেও তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগত ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

তিনি আরও জানান, রাজ ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০/১২ জনের একটি চক্র তৈরি করেন। চক্রটি রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। ওই পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, পরীমণির বাসায় তার মদপানের একটি লাইসেন্সের কপি পেয়েছে র‌্যাব। তবে সেটি আইনসিদ্ধ নয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী পরীমণির বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়; যা একটি লাইসেন্সে কাভার করে না।

উদ্ধার করা হয় একটি মিনিবার পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৩৩ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশি মদসহ দেড় শতাধিক ব্যবহৃত বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা ও সিসা সামগ্রী, এলএসডি, আইস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণিসহ গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের পরিচালক (গোয়েন্দা) লে. কর্নেল মো. খাইরুল আলম, র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোস্তাকিম, সংস্থার আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি ও এএসপি আ ন ম ইমরান খান ইমন প্রমুখ।