করোনায় স্বামীর মৃত্যু

হাসপাতালে ছুরি নিয়ে স্ত্রীর ছোটাছুটি, আতঙ্ক

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী কুলসুমা বেগম শোক সইতে না পেরে ছুরি হাতে নিয়ে হাসপাতালে থাকা ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য রোগীর স্বজনদের আঘাত করার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রূপসা গ্রামের জালাল বাশারের ছেলে। পরিস্থিতি শান্ত হলে স্বামীর মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন স্ত্রী।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল্লাহ আল মামুন শুভ বলেন, ‘ওই নারীর স্বামী করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুপুরে তার স্বামী মারা যান। এ ঘটনায় তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো ফল কাটার একটি ছুরি নিয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেককে মারতে তেড়ে যান। এ সময় করোনা ওয়ার্ডে থাকা রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সরা ভয় পেয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।’

করোনা ওয়ার্ডের নার্স উম্মে সালমা বলেন, ‘হঠাৎ করে ওই নারী ধারালো ছুরি নিয়ে এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। একপর্যায়ে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।’

করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক নাবিয়া তাহসিন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা হতভম্ব হয়ে যাই। ওই নারী কেন হঠাৎ ধারালো ছুরি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, তা বলতে পারছি না। সম্ভবত তিনি স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।’

হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে কুলসুমা বেগম তার করোনায় আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে কোনো আত্মীয়স্বজন খোঁজ-খবর না রাখায় এবং তাকে হাসপাতালে দেখতে না আসায় তিনি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলেন। তার স্বামীর অক্সিজেন লেভেলও অনেকটা কম ছিল। শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। চোখের সামনে মুহূর্তেই স্বামীর এমন মৃত্যুর দৃশ্য দেখে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে অতি শোকে কাতর হয়ে ফল কাটার ছুরি নিয়ে ডাক্তার ও নার্সদের ধাওয়া করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনদেরও ছুরি উঠিয়ে ভয় দেখান। প্রায় ১০-১৫ মিনিট ছুরি নিয়ে এমন ধাওয়া করে একসময় নিজেই জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।’

দেলোয়ার হোসেনের ভাগিনা নজরুল ইসলাম জানান, তার মামা দীর্ঘদিন যাবৎ কুয়েতে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তার শরীরে বিভিন্ন রোগ ধরা পড়ে। এসব রোগ থেকে সুস্থ হতে সেখানে চিকিৎসা করালেও তিনি কোনোভাবেই সুস্থ হয়ে ওঠেননি। তাই চিকিৎসার জন্য গত চার-পাঁচ বছর আগে কুয়েত থেকে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি আরও জানান, গত চার দিন আগে তার মামা হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।