দলের মধ্যে কোনো ভাইয়ের অনুসারী নয়, দলের অনুসারী তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। এ জন্য কমিটি গঠনের আগেই কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের বর্তমান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর আরেক সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।
দলীয় কার্যালয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে আবদুস সালাম বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর মহানগর কমিটি গঠনে কীভাবে অগ্রসর হব তা নিয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। এর অংশ হিসেবে আগামী এক সপ্তাহ রাজধানীর থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনের প্রকৃত অবস্থা জানব। আমাদের ওপর নির্দেশনা আছে দলের মধ্যে কোনো ভাইয়ের লোক নয়, দলের প্রতি কমিটেড কিনা তা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করা। পদ-পদবি দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। রাজধানী মহানগর সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
সালাম বলেন, ‘গত সোমবার বিকেলে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার থেকে সময় করে কার্যালয়ে বসছি। এতদিন এ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের খুব একটা আনাগোনা ছিল না। এখন মহানগরের এ কার্যালয় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতাকর্মীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এটি ধরে রাখা হবে। কার্যালয়ে অতিরিক্ত ফ্যান, এসি ও চেয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্থাপন করা হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ম্যুরাল।’
দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপি যথাযথভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি। করা যায়নি কমিটি। অনেক থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি নেই দীর্ঘদিন। অতীতে যখন দলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তখন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা খোকা ভাইকে সহযোগিতা করেননি। পরে যখন মির্জা আব্বাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তখন খোকা ভাইয়ের সমর্থকরা সহযোগিতা করেননি। এ কারণে খোকা গ্রুপ ও আব্বাস গ্রুপ নামে ভাইয়ের অনুসারী তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন তা সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করব। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে যা যা করা দরকার তা সবাইকে নিয়ে করব। কারও এককভাবে কিছু করা সম্ভব নয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সোমবার আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমে আমরা উত্তরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য শুনব। এরপর কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’