করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২১৪ জন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৪ হাজার ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলো। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ২১১ জনই ঢাকার। বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৭২ জন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।
গত বছরের জুলাইয়ে মাত্র ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু এ বছর জুলাইয়ে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৮৬ জন। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০০ গুণ রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে গত বছরের জুনের চেয়ে এ বছর জুনে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছর মাসের হিসাবে মের চেয়ে জুনে ৫৩২
দশমিক ৫৫, জুনের চেয়ে জুলাইয়ে ৭৪০ দশমিক ৪৪ এবং জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টের ছয় দিনে ২১৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি আক্রান্ত হয়েছে।
আক্রান্তের একই ধারা চলতে থাকলে চলতি মাসের শেষ নাগাদ ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল ডেঙ্গু মৌসুম নয়, বছরজুড়ে মশানিধনে প্রয়োজনে স্বতন্ত্র টিম গঠনের পরামর্শ দেন তারা।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা গবেষণা করে যেসব পরামর্শ দিই, তা মানা হয় না। কিন্তু পরে ঠিকই আক্ষেপ করতে হয়। এবারো ডেঙ্গু নিয়ে আমরা আগেই সতর্ক করেছি, কেউ গা করেনি। এখন যে অবস্থা চলছে, তাতে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর জুলাইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ১০০ গুণ বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সমস্যা হলো, পরামর্শ দিলে নেয় না। পরিস্থিতি খারাপ হলেই কোমর বেঁধে নামে। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, স্বতন্ত্র মশকনিধন টিম করে সারা বছর কাজ করতে হবে।’
গবেষকরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ঢাকায় কিউলেক্স গোত্রের এডিস মশা বেড়েছে চার গুণ। সিটি করপোরেশনের অবহেলার কারণে মশার এত বাড়বাড়ন্ত অবস্থা বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদরা। তাদের অভিযোগ, বছরজুড়ে মশকনিধন কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হলেও গত বছর ডেঙ্গু কমে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশন দৃশ্যমান কিছুই করেনি।
প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেঙ্গু যেভাবে বাড়ছে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত। করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুও বেড়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতনতার বিকল্প নেই। জ্বর ও শরীরে ব্যথা হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ রোগ নির্ণয় না করে ব্যথানাশক ওষুধ খেলে কিংবা ভুল চিকিৎসায় ডেঙ্গু আক্রান্তের প্লাটিলেট কমে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব থেকে ভালো ও কার্যকর সমাধান হলো মশানিধন। সারা বছরই এটি করতে হবে। সিটি করপোরেশন চাইলে কিউলেক্স মশানিধন করাও সহজ। নিজ নিজ এলাকা ও আবাসস্থল পরিষ্কার রাখলেই এ মশা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’