মহেশখালীতে বন কেটে চিংড়ির ঘের

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সরকারি প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। হোয়ানক ইউনিয়নের অমাবইশ্যা মৌজায় সিকদার গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে একরের পর একর প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘেরের নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। মাঝখানে একবার বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে কিছু জায়গা দখলমুক্ত করলেও এখন বন উজাড়ের কাজ চলছে প্রকাশ্যেই। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রফা করে ঘের নির্মাণের এই কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুন মাসে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাসখানেক ধরে নির্বিঘ্নে বন উজাড়ের কাজ চললেও গত জুলাই মাসে টনক নড়ে বন বিভাগের। তারা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে এস্ককেভেটর দিয়ে সিকদার গ্রুপের বানানো চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে প্রায় ১০ একর সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে। এছাড়া দখলকারীদের প্রধান পানির ছড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. সিকদারকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করে বন বিভাগ।

তবে বন বিভাগের করা ওই দুই মামলাকে লোক দেখানো বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কারণ নামমাত্র মামলা দিয়ে এখন নীরব ভূমিকায় রয়েছে বন বিভাগ। আর এই সুযোগে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করে জোরেশোরে চিংড়ি ঘেরের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সিকদার গ্রুপ। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রফা করে ঘের নির্মাণের এই কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মহেশখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্যারাবন কেটে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে যতদ্রুত সম্ভব অভিযান পরিচালনা করা দরকার। এভাবে সরকারি প্যারাবন ধ্বংস ও পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

বন উজাড়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দখলকারীদের প্রধান মো. সিকদারের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার বাবা আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে (বন উজাড়) কিছু জানি না। আমার ছেলে সব জানে।’

বন উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মহেশখালী প্যারাবন দেখভালের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই জায়গায় অবৈধভাবে সরকারি প্যারাবন কেটে আবারও চিংড়ি ঘের নির্মাণের সংবাদ পেয়ে ঝাপুয়া রেঞ্জের বিট কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় বন বিভাগের একটি দল। ওই জায়গায় এর আগে অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হয় এবং দখলকারীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। আগামীতে আবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

এ প্রসঙ্গে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহাফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্যারাবন কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা খুবই দুঃখজনক। নতুনভাবে প্যারাবন কাটার কোনো সংবাদ পাইনি, খোঁজ নিচ্ছি। খবর পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’