যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে দেড় বছর বয়সী মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কুলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলো পিয়া মণ্ডল (২৩) ও তার মেয়ে কথা মণ্ডল। এ ঘটনায় পিয়ার স্বামী কলেজশিক্ষক কনার মণ্ডলকে (২৯) আটক করেছে পুলিশ।
মৃতদের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বছরখানেক আগে কনার মণ্ডলের সঙ্গে স্থানীয় এক নারীর পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে তার কলহ দেখা দেয়। শনিবার সকালে স্ত্রীর সঙ্গে কনারের ঝগড়া হয়। এরপর বাইরে চলে যান তিনি। সন্ধ্যার দিকে পিয়া তার মেয়ে কথাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেন।
পিয়ার নানা কমলেশ মণ্ডল জানান, কুলটিয়ার ননি মণ্ডলের ছেলে মশিয়াহাটি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক কনার মণ্ডলের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতী গ্রামের ভগিরত মণ্ডলের মেয়ে পিয়ার বিয়ে হয়। এরপর কুলটিয়া বাজারের পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন এ দম্পতি। পিয়ার কোলজুড়ে আসে কথা। কনার পরকীয়া জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করা হতো। স্বামীর ওপর অভিমান করে অন্তঃসত্ত্বা পিয়া মেয়ে কথাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে রাতেই পিয়ার অভিভাবকরা ঘটনাস্থলে এসে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কনার মণ্ডলকে লাঞ্ছিত করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার ও কনারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মনিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, কনার মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।