পেট্রল ঢেলে নারীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!

নরসিংদীর রায়পুরায় এক নারীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে পারভীন আক্তার (৩০) নামে ওই নারীর শরীরের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকেলে পারভীনের সাবেক দেবর ও ননদের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলার লোচনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তাররা হলো উপজেলার মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) ও মো. শাহরিয়ার (১৮)।

পারভীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সোবানপুর গ্রামের দানা মিয়ার মেয়ে পারভীনের সঙ্গে বিয়ে হয় মরজাল এলাকার প্রবাসী জাকির হোসেনের। স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে প্রায়ই পারভীন ও তার মেয়ের ওপর নির্যাতন করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বছরখানেক আগে পারভীনের মেয়ের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয় দেবর আলী হোসেন। এ ঘটনায় মামলা করে পারভীনের পরিবার। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এতে রাজি না হওয়ায় পারভীনের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ায় বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন পারভীন। গত শনিবার দুপুরে টিকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে সন্ধ্যার পর দেবর আলীসহ চারজন তার মুখ বেঁধে লোচনপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে আগুন নেভানোর পর তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাত ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. এ কে এম রেজাউল ইসলাম খান জানান, পারভীনের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

রায়পুরা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।