রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ এমপি শিমুলের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুজিত সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা এবং গণমাধ্যমে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে মানহানি করার অভিযোগ তুলেছেন সাংসদ। গত রবিবার রাতে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় সাংসদ শফিকুল লিখিত ওই অভিযোগ জমা দেন। থানাটির ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সাংসদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে একই থানায় জিডি করেন অধ্যাপক সুজিত সরকার।

জানা গেছে, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ শিমুল গত রবিবার রাত ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, রাবি শিক্ষক সুজিত সরকার গত ২৯ জুলাই বোয়ালিয়া থানায় জিডি করেন। ওই জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন নিয়ে সাংসদ তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষক তার পরিবার, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিক্ষকের এমন বক্তব্যে মানহানি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সাংসদ।

সাংসদ শিমুল তার জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, সুজিত সরকারের করা জিডি পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে সুজিত সরকার মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করেছেন এবং তার সুনাম নষ্ট করেছেন। মিথ্যা অভিযোগ করায় তার নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান সাংসদ শিমুল।

সাংসদের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য বোয়ালিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন আছে। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি। তদন্ত করার পর অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।’

এর আগে সাংসদ শিমুলের বিরুদ্ধে করা জিডিতে শিক্ষক সুজিত সরকার বলেছিলেন, তিনি ২০০৯ সালে ‘নাটোর জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। যার প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১০ ও ২০২১ সালে। ওই বইয়ে রাজাকার তালিকায় সাংসদ শিমুলের বাবা হাসান আলী সরদারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংসদ শিমুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে অপরিচিত অনেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তবে সাংসদ শিমুলের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ।

থানায় সাংসদের অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সুজিত কুমার সরকার। তিনি সাংসদ শিমুলের সুনাম ক্ষুণœ করেননি দাবি করে গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত এ বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাইলে আমি অবশ্যই তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করব।’

নিজের বইয়ে রাজাকার তালিকায় সাংসদ শিমুলের বাবার নাম উল্লেখ প্রসঙ্গে শিক্ষক সুজিত বলেন, ‘আমি তো এসব তথ্য আকাশ থেকে পাইনি। স্থানীয়দের কাছ থেকে, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য। প্রয়োজন হলে সেসবও উপস্থাপন করা হবে।’