সাত ক্ষেত্রে অবদানে দেওয়া হবে ‘মুক্তিযুদ্ধ পদক’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও চেতনা বিকাশে ‘মুক্তিযুদ্ধ পদক’ প্রবর্তন করেছে সরকার। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি, সংগঠন-সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মানিত করা হবে। গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধ পদক নীতিমালা-২০২১ এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৭টি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ পদক দেওয়া হবে। সেগুলো হচ্ছে ১. স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে ভূমিকা ২. সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ৩. স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ৪. মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা বিষয়ক সাহিত্য রচনা ৫. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, নাটক নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ৬. মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ক গবেষণা এবং ৮. মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ।

গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর ‘মুক্তিযুদ্ধ পদক’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। পদকপ্রাপ্তদের ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা এবং ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে এ পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা বিদেশি নাগরিককেও এ পদক প্রদান করা যাবে। পদক প্রদানের জন্য ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনের কৃতিত্ব ও অবদানকে গুরুত্ব প্রদান করা হবে।

বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে- বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান বা যুদ্ধকালীন বা যুদ্ধপরবর্তী সর্বজনবিদিত সংগঠন হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনে অনন্য হতে হবে। সরকারি দপ্তর, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে সরাসরি অবদান রাখা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, মন্ত্রণালয় বিভাগের অধীন দপ্তর, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিবেচিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে, ফৌজদারি আইনে শাস্তিপ্রাপ্ত বা ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত বা দেউলিয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ পদকপ্রাপ্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। এছাড়া একবার পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ১০ বছরে একই বিষয়ে পুনরায় পদকের জন্য বিবেচিত হবেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ পদক দেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ পদক’ প্রদানের লক্ষ্যে মনোনয়ন আহ্বান করবে। মনোনয়ন আহ্বান করা হলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে।