সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের লাশ ছয় টুকরো করার আগে তাকে ওই স্কুলেরই একটি কক্ষে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। স্কুলের নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং লভ্যাংশের টাকার ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা করা হয় তাকে। মিন্টুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি একই প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক রবিউল ইসলাম এবং তার ভাগ্নে আবদুর রহিম গতকাল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মিন্টু হত্যায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মোতালেব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
জানা গেছে, গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মিলন ফকির এই তিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান সিকদার আবদুর রহিমের এবং আরেক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান রবিউলের জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আর মোতালেব হোসেনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফুজ্জামান।
নিহত মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে দুই বছর আগে সাভারের জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মী ও আইনজীবী এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জবানবন্দিতে দুই আসামি বলেছেন, ২০১৯ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় মিন্টুর সঙ্গে অংশীদার ছিলেন রবিউল ও মোতালেব। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পুরো স্কুলের নিয়ন্ত্রণ ছিল মিন্টুর হাতে। স্কুলের নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং লভ্যাংশের টাকার ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এরপর গত ১৩ জুন রাতে স্কুলের ১০৬ নম্বর কক্ষে মিন্টুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন রবিউল ও তার ভাগ্নে। পরে লাশ ছয় টুকরো করে তার মধ্যে পাঁচ টুকরো স্কুলের আঙিনায় পুঁতে রাখা হয়। আর বিচ্ছিন্ন মাথা রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনার নন্দাপাড়ার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরাসরি অংশ নেননি মোতালেব। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চালুর আগে তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। গত ১৩ জুলাই থেকে মিন্টুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের ঘটনায় মিন্টুর ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ গত ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। এরপর পুলিশ রবিউল ও মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গত রবিবার রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে রবিউলকে আটক করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে মিন্টুকে হত্যার পর লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় মোতালেব ও বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার দুপুরে স্কুলের আঙিনা খুঁড়ে মিন্টুর পাঁচ টুকরো লাশ উদ্ধার করেন র্যাব সদস্যরা। এরপর ওইদিনই দক্ষিণখানের ডোবা থেকে মিন্টুর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।