হাইকোর্টের মন্তব্য

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ সত্য হলে নিন্দনীয়

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুলের ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও ক্লিপের বক্তব্য সত্যি হলে তা নিন্দনীয় ও অনাকাক্সিক্ষত বলে মন্তব্য করেছে উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, শিক্ষকতার মতো পেশায় থাকা একজন অধ্যক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কথা কেউ আশা করে না। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য আসে। কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানিকালে এ মন্তব্য করে আদালত।

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে দাখিল করতে মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নিয়েছে গত সোমবার এক মৌখিক আদেশে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের গতকালের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। গতকাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার আদালতকে এই বলে অবহিত করেন যে, এ ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ এবং লকডাউনের কারণে তদন্তের এখনো অগ্রগতি নেই। তদন্ত চলছে। কমিটি যে প্রতিবেদন দেবে তার ওপর ভিত্তি করে সরকার ব্যবস্থা নেবে। বক্তব্য শুনে আদালত ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদনটি দাখিলের নির্দেশ দেয়।

গত ২৬ জুলাই দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘আমি কিন্তু বালিশের নিচে পিস্তল রেখে ঘুমাতাম’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুল এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপে অধ্যক্ষের আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ ও ওই ব্যক্তির ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের পক্ষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল এ রিট আবেদনটি করেন। অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত বলেছেন, ফোনালাপের বিষয়টি সত্যি হলে তা নিন্দনীয়। শিক্ষকতার মতো পেশায় থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘পত্রিকার প্রতিবেদন উল্লেখ করে আমি বলেছি, উনি (ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ) অস্ত্র বহন করতেন। এখন উনিই (অধ্যক্ষ) বলুক কিংবা তদন্ত করে বের করা হোক যে, তার অস্ত্র লাইসেন্স করা না লাইসেন্সবিহীন। আদালত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’